এক যুগান্তকারী রায়ে সোমবার কেরল হাই কোর্ট নির্দেশ দিয়েছে যে, রূপান্তরকামী দম্পতির সন্তানদের জন্মশংসাপত্রে ‘বাবা’ বা ‘মা’-এর পরিবর্তে ‘অভিভাবক’ (পেরেন্ট) হিসাবে নাম নথিভুক্ত করা যাবে। বিচারপতি জিয়াদ রহমান এএ-এর বেঞ্চের এই রায় রূপান্তরকামী সম্প্রদায়ের জন্য এক নতুন দিগন্ত উন্মোচন করল।
আলোচিত এই মামলাটি ছিল রূপান্তরকামী দম্পতি জাহাদ ও জিয়া পাভালের। সম্ভবত কেরলের প্রথম রূপান্তরকামী দম্পতি হিসেবে তাঁরা স্বাভাবিক প্রক্রিয়ায় সন্তানের জন্ম দিয়েছেন। গত বছর ফেব্রুয়ারিতে জাহাদ, যিনি একজন রূপান্তরকামী পুরুষ, সন্তানের জন্ম দেন। এই ঘটনাটি দেশের রূপান্তরকামী সম্প্রদায়ের মধ্যে এক আলোড়ন সৃষ্টি করেছিল।
সন্তানের জন্মের পর, কোঝিকোড় পুরসভা প্রাথমিকভাবে জাহাদকে ‘মা’ এবং জিয়াকে ‘বাবা’ হিসেবে জন্মশংসাপত্রে নথিভুক্ত করে। এতে ক্ষুব্ধ হয়ে দম্পতি হাইকোর্টের দ্বারস্থ হন, কারণ জাহাদ দীর্ঘকাল ধরে নিজেকে পুরুষ হিসেবেই পরিচয় দিয়ে এসেছেন। তাঁদের পক্ষে সওয়াল করেন কেরলের প্রথম রূপান্তরকামী আইনজীবী পদ্মা লক্ষ্মী। তিনি যুক্তি দেন যে, পুরসভার এই পদক্ষেপ সংবিধানের ১৪তম অনুচ্ছেদের অধীনে তাঁদের মৌলিক অধিকারের লঙ্ঘন। সংবিধান অনুযায়ী, ‘ব্যক্তি’ শব্দের অর্থ কেবল পুরুষ বা নারীর মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়, একজন রূপান্তরকামীও সমান অধিকার ও আইনি সুরক্ষার অধিকারী।
দম্পতি আরও জানান যে, তাঁদের লিঙ্গপরিচয় উপেক্ষা করে ‘মা’ ও ‘বাবা’ হিসেবে চিহ্নিত করা কেবল তাঁদের অস্তিত্বের লড়াইয়ের বিরোধিতা নয়, বরং ভবিষ্যতে সন্তানের সরকারি নথি তৈরি ও শিক্ষাক্ষেত্রে বিভ্রান্তি ও বৈষম্যের কারণ হতে পারে।
উভয় পক্ষের যুক্তি শুনে আদালত পর্যবেক্ষণ করে যে, প্রত্যেক রূপান্তরকামী ব্যক্তির নিজস্ব লিঙ্গ পরিচয় নিয়ে বাঁচার অধিকার রয়েছে। এর পরেই উচ্চ আদালত কোঝিকোড় পুরসভাকে অবিলম্বে একটি নতুন জন্মশংসাপত্র জারি করার নির্দেশ দেয়, যেখানে জাহাদ ও জিয়ার লিঙ্গ উল্লেখ না করে তাঁদের কেবলমাত্র ‘অভিভাবক’ হিসাবে নথিভুক্ত করতে হবে। এই রায় ভারতের রূপান্তরকামী সম্প্রদায়ের অধিকারের ইতিহাসে একটি মাইলফলক হয়ে থাকবে।







