জেলা

সরকারি প্রকল্পের নামে পুকুর চুরি! মধ্যমগ্রামে ৩০ বিঘা পুকুর গায়েব

স্থানীয়রা বলছেন—৫০ বছরের পুরনো পুকুর ভরাট করে মাছ চাষ বন্ধ, জল সমস্যায় ভুগছে পরিবার। তৃণমূল বলছে—সৌন্দর্যায়নের প্রকল্প মাত্র!

পুকুর চুরি—সাধারণত রাজনৈতিক তর্জার একটি রূপক বলেই ধরা হয়। কিন্তু মধ্যমগ্রামের পশ্চিম খিলকাপুরে সেটাই যেন বাস্তব হয়ে উঠেছে। অভিযোগ, সরকারি প্রকল্পের নামে একের পর এক পুকুর ভরাট করে রাতের অন্ধকারে চলেছে ‘পুকুর চুরি’। এবং তার পরিমাণও কম নয়—প্রায় ৩০ বিঘা জমির পুকুর।

স্থানীয় বাসিন্দাদের দাবি, ২০২৩ সালে প্রশাসনিক হস্তক্ষেপে একবার কাজ বন্ধ হয়েছিল। এমনকি থানায় অভিযোগও দায়ের হয়। কিন্তু ২০২৪-২৫ সালে ফের নতুন উদ্যমে শুরু হয়েছে সেই ভরাটের কাজ।

স্বপন অধিকারী, স্থানীয় বাসিন্দা জানান, “আমরা ছোটবেলা থেকে এই পুকুরে মাছ ধরেছি। এখন সবটাই মাটি দিয়ে চাপা পড়ছে। জল সমস্যায় ভুগছে পাড়া।”
নিতাই মণ্ডলের অভিযোগ, “তৃণমূলের লোকজনই এই কাজ করাচ্ছে। প্রশাসন নীরব।”

তবে পঞ্চায়েত সদস্যদের বক্তব্য একেবারেই আলাদা।
সমরেন্দ্র বিশ্বাস, পঞ্চায়েত সদস্যের স্বামী দাবি করেন, “এটা পুরোপুরি ভিত্তিহীন। এখানে সৌন্দর্যায়নের কাজ হচ্ছে। পুকুর ভরাট নয়, পাড় বাঁধা হচ্ছে।”
বিকাশ চন্দ্র বাগচির কথায়, “যারা বাধা পেয়েছে, তারাই বদনাম ছড়াচ্ছে। বরং এলাকার বাড়িগুলোকে রক্ষা করতেই কাজ চলছে।”

স্থানীয় বিজেপি নেতৃত্ব অবশ্য অভিযোগ করছে সরকারি প্রকল্পের আড়ালে তৃণমূলের নেতাদের মদতেই চলছে এই ‘জলজ সম্পদের ধ্বংস’।
দেবজ্যোতি বিশ্বাসের বক্তব্য, “সরকারি প্রকল্পের নামে প্রকৃতির সম্পদ লুঠ চলছে। মানুষ প্রতিবাদ করলে হুমকি দেওয়া হচ্ছে।”

এই মুহূর্তে স্থানীয় প্রশাসনের নিরপেক্ষ তদন্ত ও পুকুরগুলিকে আগের অবস্থায় ফিরিয়ে দেওয়ার দাবিতে সরব হয়েছেন বহু মানুষ।

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Adblock Detected

Please Turn Off Your Ad Blocker.