উপরাষ্ট্রপতি জগদীপ ধনকড় আচমকাই পদত্যাগ করলেন, তাও আবার কার্যকালের প্রায় দুই বছর বাকি থাকতে। সোমবার রাতে তাঁর ইস্তফাপত্র সামনে আসতেই রাজনৈতিক মহলে শুরু হয় গুঞ্জন। বিজেপির দাবি, স্বাস্থ্যজনিত কারণেই ধনকড় ইস্তফা দিয়েছেন। তবে বিরোধীদের প্রশ্ন, শুধুমাত্র অসুস্থতার কারণ দেখিয়ে কেউ এত বড় পদ থেকে সরে দাঁড়াতে পারেন?
জল্পনা আরও ঘনীভূত হয়েছে দিল্লি হাই কোর্টের বিচারপতি যশবন্ত বর্মার বাড়ি থেকে বিপুল অর্থ উদ্ধারের ঘটনায়। শোনা যাচ্ছে, ওই বিচারপতির বিরুদ্ধে বিরোধীরা যে ইমপিচমেন্ট প্রস্তাব আনে, তা ধনকড় রাজ্যসভায় গ্রহণ করেন। অথচ কেন্দ্রীয় সরকার নিজের পক্ষ থেকে প্রস্তাব আনার পরিকল্পনা করছিল, যাতে দুর্নীতি বিরোধী অবস্থান স্পষ্ট হয়। ধনকড় সেই পরিকল্পনা না জেনে বিরোধীদের প্রস্তাব গ্রহণ করায় কেন্দ্রের কৌশলে ধাক্কা লাগে।
এই ঘটনার পরই কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের সঙ্গে ধনকড়ের দূরত্ব তৈরি হয় বলে খবর। বিজেপির শীর্ষ নেতৃত্ব জরুরি বৈঠকে বসে সিদ্ধান্ত নেয় বিকল্প পদক্ষেপ নেওয়ার। সাংসদদের সই করিয়ে নতুন প্রস্তাব তৈরির পাশাপাশি ধনকড়কে নিয়ে অসন্তোষের বার্তা দেওয়া হয় দলের ভিতরেই।
সোমবার রাতে ধনকড় সোশ্যাল মিডিয়ায় ইস্তফার কথা জানালে রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মু তা গ্রহণ করেন। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীও তাঁর আরোগ্য কামনা করে বার্তা দেন।
তবে বিরোধীদের অভিযোগ, ধনকড়কে পদত্যাগে বাধ্য করা হয়েছে। তাঁদের মতে, পুরো বিষয়টি অত্যন্ত গোপনে পরিচালিত হয়েছে, স্বচ্ছতা ছিল না। পশ্চিমবঙ্গের প্রাক্তন রাজ্যপাল হিসেবে ধনকড় আগেও একাধিক বিতর্কে জড়িয়েছিলেন। এবার তাঁর ইস্তফা ঘিরেও সেই বিতর্কেরই নতুন অধ্যায় শুরু হল।







