১৯ বছর বয়সে ইতিহাস লিখলেন দিব্যা দেশমুখ। কোনেরু হাম্পির মতো কিংবদন্তিকে হারিয়ে ভারতের প্রথম মহিলা দাবা বিশ্বচ্যাম্পিয়নের মুকুট উঠল তাঁর মাথায়। টাইব্রেকারের দ্বিতীয় র্যাপিড গেমে হাম্পিকে পরাস্ত করে জয় নিশ্চিত করেন এই তরুণী। দেশজোড়া আবেগে ভেসে যাওয়া দিব্যার চোখে জল—এ যেন শুধু একটা জয় নয়, একটা প্রজন্মের আত্মবিশ্বাসের প্রতিচ্ছবি।
দুই ক্লাসিক্যাল গেম ড্র হওয়ার পর খেলা গড়ায় টাইব্রেকারে। প্রথম র্যাপিড গেমেও কেউ জয়ের কাছাকাছি পৌঁছতে পারেননি। কিন্তু দ্বিতীয় র্যাপিডে কালো ঘুঁটি নিয়ে দারুণ কৌশলী আক্রমণ চালান দিব্যা। হাম্পির ধৈর্য ভাঙতে শুরু করে সময়ের চাপেই। এক ভুল চালই ম্যাচের মোড় ঘুরিয়ে দেয়। ৩৪ চালের পর হাম্পি হার স্বীকার করেন, আর চ্যাম্পিয়ন হন দিব্যা।
অভিজ্ঞতা বা রেটিং—কোনোটাই দিব্যার পক্ষে ছিল না। তবু গোটা টুর্নামেন্ট জুড়ে তাঁর আগ্রাসী স্ট্র্যাটেজি ও সাহসিক খেলা নজর কাড়ে। হাম্পি বরাবরই কিছুটা রক্ষণাত্মক ভঙ্গিতে খেলেছেন। বিশেষ করে টাইব্রেকারে তাঁর সময় ব্যবস্থাপনাও হয়ে ওঠেনি যথাযথ। তার সুযোগই কাজে লাগান দিব্যা।
ভারতীয় দাবায় এটিই প্রথম মহিলা বিশ্বশিরোপা। যে দেশে বিশ্বনাথন আনন্দের হাত ধরে দাবা জনপ্রিয়তা পেয়েছে, সেই দেশে আজ আর একজন বিশ্বচ্যাম্পিয়ন। এই জয় শুধু দিব্যার নয়—এ দেশের মেয়েদের আত্মবিশ্বাস, পরিশ্রম আর স্বপ্নেরও জয়। ভারতীয় দাবায় আজ এক নতুন সূর্যোদয়।







