পাকিস্তান ক্রিকেট ফের বিতর্কে। ইংল্যান্ড সফররত ‘এ’ দলের সদস্য হায়দর আলিকে ধর্ষণের অভিযোগে গ্রেফতার করল গ্রেটার ম্যানচেস্টার পুলিশ। অভিযুক্ত ক্রিকেটার বর্তমানে জামিনে মুক্ত হলেও তদন্ত চলাকালীন তাঁর পাসপোর্ট বাজেয়াপ্ত রাখা হয়েছে।
ঘটনাটি ঘটেছে ৩ অগস্ট। সেদিন লন্ডনের বেকেনহ্যাম মাঠে এমসিএসএসি-র বিরুদ্ধে ম্যাচ খেলতে নামে পাকিস্তান শাহিনস। ম্যাচের দিনই হায়দরকে গ্রেফতার করা হয়। অভিযোগ এনেছেন পাকিস্তানি বংশোদ্ভূত এক তরুণী। পুলিশের তরফে জানানো হয়েছে, অভিযুক্তকে জিজ্ঞাসাবাদের পর জামিনে ছাড়া হলেও তদন্ত শেষ না-হওয়া পর্যন্ত তিনি দেশ ছাড়তে পারবেন না।
পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ড (PCB) জানিয়েছে, তারা বিষয়টি সম্পর্কে অবগত এবং তদন্ত শেষ না-হওয়া পর্যন্ত হায়দরকে সাময়িকভাবে সাসপেন্ড করা হয়েছে। বোর্ডের মুখপাত্র জানিয়েছেন, “আমরা ঘটনার তথ্য সংগ্রহ করছি। তদন্তের পরবর্তী ধাপ অনুযায়ী সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।” পাশাপাশি হায়দরকে প্রয়োজনীয় আইনি সহায়তা দেওয়া হবে বলেও জানিয়েছে বোর্ড।
জানা গিয়েছে, গ্রেফতারের সময় হায়দর অত্যন্ত আবেগপ্রবণ ছিলেন এবং নিজেকে নির্দোষ বলে দাবি করেছেন। উল্লেখযোগ্য, পাকিস্তান শাহিনসের ইংল্যান্ড সফর ৬ অগস্ট শেষ হয়েছে। অধিকাংশ খেলোয়াড় দেশে ফিরে গেলেও হায়দর তদন্তের কারণে ব্রিটেনে রয়ে গিয়েছেন।
হায়দর আলি পাকিস্তানের হয়ে ৩৫টি টি২০ ও ২টি ওয়ান ডে ম্যাচ খেলেছেন। ২০২৩ সালের এশিয়ান গেমস ছিল জাতীয় দলের হয়ে তাঁর শেষ সফর। যদিও প্রতিভাবান হিসেবে পরিচিত হায়দরের অতীত বিতর্কমুক্ত নয়। ২০২১ সালে পাকিস্তান সুপার লিগ চলাকালীন কোভিড বিধি ভাঙায় তাঁকে সাসপেন্ড করা হয়েছিল, যার জেরে বাদ পড়েন আন্তর্জাতিক সফর থেকেও। পরে মাঠে ফিরে এলেও ফের একবার তাঁর কেরিয়ার বড় ধাক্কা খেল।
এই ঘটনার ফলে পাকিস্তান ক্রিকেটে আরও একবার নেমে এল অস্বস্তির ছায়া। অতীতে স্পট-ফিক্সিং থেকে শৃঙ্খলাভঙ্গ, একাধিক বিতর্কে জড়িয়েছে পাকিস্তানি ক্রিকেটাররা। এবার যৌন নির্যাতনের অভিযোগে ফের আলোচনায় উঠে এলেন এক তরুণ খেলোয়াড়। যদিও এখনও তদন্ত চূড়ান্ত পর্যায়ে পৌঁছায়নি। ফলে পাক বোর্ডসহ গোটা ক্রিকেট মহল আপাতত আইনি প্রক্রিয়ার ফলাফলের দিকেই তাকিয়ে।







