আইএসএল ঘিরে অনিশ্চয়তার ধোঁয়াশা যত ঘন হচ্ছে, ততই উদ্বেগ বাড়ছে ক্লাবগুলোর মধ্যে। সর্বভারতীয় ফুটবল ফেডারেশন (এআইএফএফ) ও ফুটবল স্পোর্টস ডেভেলপমেন্ট লিমিটেডের (এফএসডিএল) চুক্তি নবীকরণে জটিলতা তৈরি হওয়ায় প্রতিযোগিতার ভবিষ্যৎ নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। এই প্রেক্ষাপটে আইএসএলের ১৩টি ক্লাবের মধ্যে ১১টি যৌথভাবে ফেডারেশনকে চিঠি দিয়ে সুপ্রিম কোর্টে দ্রুত সমাধানের আর্জি জানিয়েছে। তবে সই করেনি কলকাতার দুই প্রধান— ইস্টবেঙ্গল ও মোহনবাগান।
দুই ক্লাবের কর্পোরেট মালিক ইমামি ও আরপিএসজি গ্রুপ স্পষ্ট জানিয়েছে, তারা ফুটবলে বিনিয়োগ করলেও সরাসরি আইনি লড়াইয়ে নামতে চায় না। ব্যবসায়িক স্বার্থ ও ক্রীড়া উদ্যোগে মনোযোগ দেওয়াই তাদের অগ্রাধিকার। একই পথে হেঁটেছে বেঙ্গালুরু এফসিও, যার মালিক জেএসডব্লিউ গ্রুপও আপাতত মামলা থেকে দূরে থাকতে চায়। ফলে ১১ ক্লাবের চিঠি আসলে আটটির সইয়েই জমা পড়েছে।
এআইএফএফ সভাপতি কল্যাণ চৌবে ক্লাবগুলোর বৈঠকে আইএসএল নিয়ে স্পষ্ট কোনও রোডম্যাপ দিতে পারেননি। তিনি ইঙ্গিত দিয়েছেন, প্রতিযোগিতা দেরিতে শুরু হতে পারে, ফরম্যাটেও পরিবর্তন আসতে পারে। অনিশ্চয়তা কাটাতে সেপ্টেম্বরের সুপার কাপ আয়োজনের প্রস্তাব দিলেও তা ক্লাবগুলোর আস্থা ফেরাতে পারেনি। ওড়িশা এফসি, চেন্নাইয়িন এফসি এবং বেঙ্গালুরুর মতো ক্লাব আর্থিক চাপে চুক্তি স্থগিত ও বেতন বন্ধের পথে হাঁটছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, আইএসএল নিয়ে এই আইনি ও প্রশাসনিক জট দ্রুত না মিটলে ক্ষতিগ্রস্ত হবে শুধু ক্লাব নয়, গোটা ভারতীয় ফুটবল। একদিকে মাঠের লড়াই, অন্যদিকে বোর্ডরুমের অচলাবস্থা— এই দুইয়ের ফাঁকে মরসুমের প্রস্তুতি ও পরিকল্পনা প্রায় থমকে গেছে। কলকাতার দুই দৈত্যের নীরবতা তাই একদিকে কৌশলগত সিদ্ধান্ত হলেও, অন্যদিকে তা সংকটের সমাধান আরও পিছিয়ে দিতে পারে।







