প্রতি বছর ১২ আগস্ট পালন করা হয় আন্তর্জাতিক যুব দিবস (International Youth Day)। এই দিনটি প্রথম উদযাপিত করে জাতিসংঘ ১৯৯৯ সালে, যার উদ্দেশ্য ছিল যুব সমাজের গুরুত্বকে বিশ্ববাসীর সামনে তুলে ধরা এবং যুবসমাজের উন্নয়ন ও স্বার্থরক্ষার প্রতি সচেতনতা বৃদ্ধি করা। ২০০০ সাল থেকে নিয়মিত এই দিনটি পালিত হয়।
ইতিহাস:
জাতিসংঘের সিদ্ধান্তে আন্তর্জাতিক যুব দিবস পালন শুরু হলেও, এর মূলে রয়েছে ১৯৬৫ সালের ১২ আগস্ট, যখন দক্ষিণ আফ্রিকার প্রখ্যাত যুবনেতা স্টিভ বিকো (Steve Biko) মারা যান। স্টিভ বিকো ছিলেন জাতিগত বৈষম্যের বিরুদ্ধে লড়াই করা একজন সাহসী যুব নেতা, যিনি “ব্ল্যাক কনশাসনেস” আন্দোলনের অন্যতম প্রতীক। তার ত্যাগ ও আদর্শ যুব সমাজের জন্য অনুপ্রেরণার উৎস হিসেবে বিবেচিত হয়।
যুব সমাজ হলো দেশের ভবিষ্যৎ শক্তি। তাদের শিক্ষা, কর্মসংস্থান, মানসিক স্বাস্থ্য, সমাজসেবা, নেতৃত্বগুণ, এবং অংশগ্রহণ নিশ্চিত করাই জাতিসংঘ ও বিভিন্ন রাষ্ট্রের প্রধান লক্ষ্য। আন্তর্জাতিক যুব দিবসের মাধ্যমে যুবকদের অধিকার, সুযোগ ও দায়িত্ব সম্পর্কে সচেতনতা বৃদ্ধি করা হয়। বিশ্বে যুব বেকারত্ব, মানসিক চাপ, যৌন স্বাস্থ্যসহ নানা সমস্যা মোকাবিলায় তাদের পাশে দাঁড়ানোর আহ্বান জানানো হয়।
আন্তর্জাতিক যুব দিবস বিশ্বব্যাপী যুবকদের সক্রিয় অংশগ্রহণ এবং ক্ষমতায়নের সুযোগ দেয়। বিভিন্ন দেশের সরকার, এনজিও, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান এবং যুব সংগঠন একত্রিত হয়ে কর্মশালা, সেমিনার, সচেতনতা প্রচার ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করে। এর ফলে যুব সমাজের সমস্যা এবং সম্ভাবনার প্রতি নজর পড়ে, এবং তাদের ক্ষমতায়নে নতুন পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়।
সমাজের সুস্থ ও সমৃদ্ধ ভবিষ্যতের জন্য যুব সমাজের ভূমিকা অপরিহার্য। তাই প্রতি বছর এই দিনে যুব শক্তির গুরুত্ব এবং তাদের সমৃদ্ধি নিশ্চিত করার লক্ষ্যে বিভিন্ন পদক্ষেপ নেওয়া হয়।







