মঙ্গলবার কলকাতা হাইকোর্টে এক অভূতপূর্ব পরিস্থিতির সৃষ্টি হল। নি বিড়লা গার্লস কলেজের অধ্যক্ষের মামলার শুনানি চলাকালীন হঠাৎই তীব্র বিতর্কের জেরে বিচারপতি বিশ্বজিৎ বসু নিজেকে মামলা থেকে সরিয়ে নিলেন।
অধ্যক্ষ তাঁর বিরুদ্ধে জারি হওয়া ‘শো-কজ’ নোটিসের বৈধতা চ্যালেঞ্জ করেছিলেন। নোটিসটি জারি করেছিলেন কলেজের পরিচালন সমিতির সভাপতি কাজরী বন্দ্যোপাধ্যায়, যিনি মুখ্যমন্ত্রীর ভ্রাতৃবধূ। শুনানি একাধিকবার পিছোনোর পর মঙ্গলবারই অন্তর্বর্তী নির্দেশ দেওয়ার কথা ছিল।
কিন্তু রায় ঘোষণার ঠিক আগে রাজ্যের অ্যাডভোকেট জেনারেল কিশোর দত্ত আপত্তি জানান। তাঁর দাবি, তাঁর বক্তব্য পুরোপুরি শোনা হয়নি। এরপর তিনি বিচারপতির কাছে সরাসরি অনুরোধ করেন যাতে তিনি মামলাটি থেকে সরে দাঁড়ান। বিচারপতি তাঁকে অতিরিক্ত সময় দিতে রাজি হলেও, এজি নিজের অবস্থানে অনড় থাকেন এবং বারবার চাপ দিতে থাকেন।
অবশেষে বিচারপতি বসু মন্তব্য করেন, রাজ্যের এই অবস্থান “দুঃখজনক” এবং আদালতের মর্যাদাকে আঘাত করেছে। তাঁর বক্তব্য—“শুধু বিচার হলেই হবে না, বিচার হচ্ছে তা মানুষের কাছে দৃশ্যমানও হতে হবে।” তিনি জানান, যখন আদালতের প্রতি আস্থা রাখা হয় না, তখন বিচারক হিসেবে সরে যাওয়াই শ্রেয়।
এই পরিস্থিতিতে বিচারপতি বসু মামলার দায়িত্ব থেকে নিজেকে অব্যাহতি দেন এবং বিষয়টি হাইকোর্টের প্রধান বিচারপতিকে জানানোর ঘোষণা করেন। ফলে এই মামলা ঘিরে আদালতের নিরপেক্ষতা, সরকারি পক্ষের ভূমিকা এবং বিচারব্যবস্থার মর্যাদা নিয়ে নতুন করে বিতর্ক শুরু হয়েছে।







