দেশ

নোরা ফতেহির মতো না হওয়ায় স্ত্রীর উপর নির্যাতনের অভিযোগ স্বামীর বিরুদ্ধে

উত্তরপ্রদেশের গাজিয়াবাদে এক শিক্ষকের বিরুদ্ধে স্ত্রীর উপর অমানবিক নির্যাতনের অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগ, বিয়ের পর থেকেই স্ত্রীকে নোরা ফতেহির মতো দেখতে হওয়ার জন্য চাপ দেওয়া হতো। সেই সঙ্গে শারীরিক, মানসিক ও আর্থিক নির্যাতনের শিকার হন তিনি। ভুক্তভোগী সানবী থানায় লিখিত অভিযোগ করেছেন, তাঁর স্বামী শিবম ঊজ্জ্বল যিনি পেশায় এক সরকারি স্কুলের শারীরশিক্ষক প্রতিদিন তাঁকে অন্তত তিন ঘণ্টা শরীরচর্চা করতে বাধ্য করতেন। অসুস্থ হয়ে পড়লেও রেহাই মিলত না। অভিযোগ, ব্যায়াম না করলে বা ক্লান্ত হয়ে পড়লে তাঁকে দিনের পর দিন না খাইয়ে রাখা হতো।

সানবির দাবি, বিয়ের পর থেকেই স্বামী শিবম বিয়ের জন্য অনুশোচনা প্রকাশ করতেন। বলতেন, চাইলে তিনি বলিউড তারকা নোরা ফতেহির মতো দেখতে কাউকে বিয়ে করতে পারতেন। শুধু তাই নয়, পণের জন্যও তাঁর উপর চরম চাপ সৃষ্টি করা হতো। নির্যাতনের ফলে শানুর একবার গর্ভপাতও হয় বলে অভিযোগ। স্ত্রীর অভিযোগ আরও গুরুতর শিবম ফোনে অন্য মহিলাদের অশ্লীল ভিডিও ও ছবি দেখতেন। আপত্তি জানালে তাঁকে মারধর করা হতো। শুধু স্বামী নন, শ্বশুর, শাশুড়ি ও ননদও তাঁকে মানসিক ও শারীরিকভাবে হেনস্থা করতেন। বাপের বাড়ি থেকে দামী জামাকাপড়, গয়না ও অন্যান্য জিনিস আনার জন্য চাপ দেওয়া হতো।

২০২৫ সালের মার্চে শানু ও শিবমের বিয়ে হয়। অভিযোগকারিণীর পরিবার দাবি করেছেন, বিয়েতে ৭৬ লক্ষ টাকা খরচ হয়, দেওয়া হয় ২৬ লক্ষ টাকার স্কর্পিও গাড়ি ও নগদ ১০ লক্ষ টাকা। এর পরও শ্বশুরবাড়ির পক্ষ থেকে আরও সম্পত্তি ও অর্থ দাবি করা হয়। গর্ভাবস্থায় তাকে এমন খাবার খেতে দেওয়া হতো যাতে তাঁর স্বাস্থ্যের আরও অবনতি ঘটে। চিকিৎসকদের মতে, সেই শারীরিক ও মানসিক নির্যাতনের ফলেই গর্ভপাত ঘটে। গর্ভপাতের পর বাপের বাড়ি ফিরে গেলেও স্বামী ও শ্বশুরবাড়ির লোকজন ভিডিও কলে কটূক্তি ও হুমকি দিতে থাকেন। অভিযোগ, পরে যখন সানবি শ্বশুরবাড়ি ফেরেন, তখন তাঁকে বাড়িতে ঢুকতেও দেওয়া হয়নি এবং তাঁর গয়নাগাঁটি ফেরত দেওয়া থেকে বিরত থাকেন শাশুড়ি ও ননদ। ACP সালোনি আগরওয়াল জানিয়েছেন, অভিযোগের ভিত্তিতে মামলা রুজু হয়েছে এবং ঘটনার তদন্ত শুরু হয়েছে।

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Adblock Detected

Please Turn Off Your Ad Blocker.