বাংলা থিয়েটারের ইতিহাসে এক অনন্য নাম নটী বিনোদিনী। জীবনে একাধিক আঘাত, অপমান এবং প্রতারণার মুখোমুখি হয়েও তিনি নাট্যজগতকে ভালোবেসে গেছেন শেষ পর্যন্ত। গুরু গিরিশচন্দ্র ঘোষ থেকে শুরু করে রাজা রাজেন্দ্রলাল রায় পর্যন্ত, তাঁর জীবনে নানা সম্পর্কে পাওয়া কষ্টের ছাপ স্পষ্ট। জীবনের অন্তিম সময়ে অন্তরালেই কাটান এই অসাধারণ অভিনেত্রী। তাঁর শেষ বয়স নিয়ে খুব কমই আলোচনা হয়েছে।
সম্প্রতি রুক্মিণী মৈত্র বড়োপর্দায় এনেছিলেন বিনোদিনীর জীবনী। তবে সেখানে তাঁর বার্ধক্যের অংশ খুব সামান্যই উঠে আসে। সেই অপূর্ণতাই পূরণ করতে এবার মঞ্চে আসছে নাটক “সেই এক বিনোদিনী”। লিখেছেন সুরজিৎ বন্দ্যোপাধ্যায়, পরিচালনায় রয়েছেন তাঁর স্ত্রী অনিন্দিতা বন্দ্যোপাধ্যায়। নাটকে দেখা যাবে বৃদ্ধ বিনোদিনীকে, যার সঙ্গী হবেন তাঁরই উত্তরসূরি নটী তারাসুন্দরী। তাঁদের কথোপকথনের মাধ্যমে প্রকাশ পাবে বিনোদিনীর অজানা অধ্যায় ও নটীদের অবহেলিত অবস্থার প্রশ্ন। এই নাটকে বিনোদিনীর ভূমিকায় অভিনয় করছেন অনিন্দিতা নিজেই, আর তারাসুন্দরীর চরিত্রে থাকছেন তাঁদের কন্যা দেবপ্রিয়া। লেখক সুরজিৎও থাকছেন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকায়। মঞ্চসজ্জার দায়িত্বে রয়েছেন বিলু দত্ত। নাট্যরঙ্গ দলের অন্যান্য সদস্যরাও যুক্ত হয়েছেন অভিনয়ে।
স্বজনপোষণের অভিযোগে প্রশ্ন করা হলে সুরজিৎ বলেন,”তাহলে তো বহুরূপী, নান্দীকার, চেতনা বা স্বপ্নসন্ধানীর মতো দলের নামও আগে আসা উচিত। শম্ভু মিত্র থেকে কৌশিক সেন, সবাই পরিবারের সদস্যদের নিয়ে কাজ করেছেন। আমার স্ত্রী ও মেয়ে মঞ্চে তাঁদের কাজের যোগ্যতার ভিত্তিতেই জায়গা পেয়েছে।” নাট্যদলের সভাপতি স্বপন সেনগুপ্ত জানিয়েছেন, অনিন্দিতা অতীতে ‘বিনোদিনী কথা’ নাটকে অভিনয়ের জন্য সম্মান পেয়েছিলেন। অন্যদিকে দেবপ্রিয়াও পূর্বে অভিনয়ের মাধ্যমে প্রশংসা অর্জন করেছেন। ফলে, নাট্যরঙ্গের নতুন প্রযোজনায় তাঁদের উপস্থিতি দলের শক্তি হিসেবেই দেখা হচ্ছে। এই প্রযোজনার মাধ্যমে দর্শকরা প্রথমবার মঞ্চে দেখবেন নটী বিনোদিনীর জীবনের শেষ অধ্যায়ের প্রতিচ্ছবি।







