২০২৬ সালের বিধানসভা ভোটের আগে বড় পরিবর্তনের পথে এগোচ্ছে পশ্চিমবঙ্গের ভোটের ছবি। নির্বাচন কমিশন সূত্রে খবর, রাজ্যে আরও প্রায় ১৪ হাজার বুথ বাড়তে চলেছে। বর্তমানে বুথের সংখ্যা যেখানে সামান্য বেশি ৮০ হাজার, সেখানে নতুন বুথ যোগ হলে তা দাঁড়াবে প্রায় ৯৪ হাজারে।
যে সব বুথে ১২০০-র বেশি ভোটার রয়েছে, সেগুলিকে ভেঙে তৈরি হবে নতুন বুথ। ইতিমধ্যেই কমিশন বুথগুলি চিহ্নিত করেছে। আগামী ২৯ অগস্ট সর্বদল বৈঠকে এই বিষয়ে মতামত শোনা হবে, যদিও তা মূলত ঔপচারিকতা।
তৃণমূলের ভরসা:
রাজ্যের শাসকদল এ নিয়ে কোনও দুশ্চিন্তায় নেই। তৃণমূলের বক্তব্য, সব বুথে লোক দেওয়ার মতো সাংগঠনিক শক্তি কেবল তাদেরই রয়েছে। রাজ্য সহসভাপতি জয়প্রকাশ মজুমদার সরাসরি বলেছেন, “খাতায়কলমে অনেক দাবি থাকলেও বাস্তবে তৃণমূল ছাড়া অন্য কারও সে ক্ষমতা নেই।”
বিজেপির পাল্টা হুঙ্কার:
বিজেপি অবশ্য বলছে, তিন মাস পরেই ছবিটা বদলে যাবে। রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্যের দাবি, “২০২৬ সালের নির্বাচন তৃণমূলকে বিসর্জন দেওয়ার নির্বাচন হবে।” তবে বিজেপি বিরোধীদেরই স্বীকারোক্তি, বুথে এজেন্ট জোগাড় করাই তাদের জন্য সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ।
বামের দাবি:
সিপিএম নেতা সুজন চক্রবর্তীর কথায়, “আমাদের সব বুথে লোক রয়েছে। এত দিন পুলিশকে কাজে লাগিয়ে ভয় দেখিয়ে তৃণমূল আধিপত্য কায়েম রেখেছে। কিন্তু সেই ছবির বদল ঘটছে।” তবে দলের বহু প্রবীণ নেতা আড়ালেই স্বীকার করছেন, বুথে এজেন্ট বসাতে হিমশিম খেতে হচ্ছে।
কংগ্রেসের খোলাখুলি স্বীকারোক্তি:
প্রদেশ কংগ্রেসের প্রাক্তন সভাপতি অধীর চৌধুরী বলেছেন, “আমাদের সাংগঠনিক দুর্বলতা রয়েছে। বুথ বাড়লে চাপও বাড়বে।”
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, বুথে এজেন্ট বসাতে পারা-না-পারাই বোঝাবে কোন দল কতটা প্রস্তুত। কারণ মিছিল বা জনসভা ভরালেই সংগঠন মজবুত হয় না—ভোটের দিন বুথ কামড়ে বসাই আসল খেলা।
যদিও অনেকের মত, প্রতিষ্ঠান বিরোধিতা তীব্র হলে বুথ সংগঠনের প্রভাব কমে যায়। যেমনটা দেখা গিয়েছিল ২০০৯ লোকসভা ও ২০১১ বিধানসভায়—যেখানে বামেদের অগাধ বুথ সংগঠন থাকা সত্ত্বেও পরাজিত হয়েছিল তারা।
তবে বর্তমান পরিস্থিতিতে বুথের শক্তিকেই সবাই মৌলিক বিষয় হিসেবে মানছেন। আগামী ভোটে তাই নজর থাকবে—৯৪ হাজার বুথে আসল লড়াই কতটা জমাতে পারে বিরোধীরা, আর কতটা ধরে রাখে তৃণমূল।







