দীর্ঘদিন ধরে চাষের খরচ মেটাতে ধারদেনার চক্রে আটকে পড়েছিলেন জেলার হাজারো কৃষক। সার, বীজ, কীটনাশক—সবকিছুর জন্যই প্রায়শই ভরসা করতে হতো মহাজনের ঋণের উপর। তবে সেই চিন্তা থেকে মুক্তির স্বাদ পেলেন মালদহের কৃষকেরা। রাজ্য সরকারের ‘কৃষক বন্ধু’ প্রকল্পে চলতি খরিফ মরসুমে জেলার প্রায় ৬ লক্ষ ২০ হাজার ৯৩০ জন কৃষকের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে সরাসরি পৌঁছেছে ১৫১ কোটি ২৭ লক্ষ টাকা।
এই অর্থ পাওয়ার পর ঋণের বোঝা অনেকটাই হালকা হয়েছে বলে জানিয়েছেন কৃষকেরা। ফলে চাষের কাজে স্বস্তি মিলেছে জেলার চাঁচল, হরিশ্চন্দ্রপুর, গাজোল-সহ বিভিন্ন ব্লকে।
চাঁচল ১ ব্লকের কৃষক নাজমুল হক বলেন,
“কৃষক বন্ধুর টাকা পেয়ে সারের দোকানের সমস্ত দেনা মিটিয়েছি। এই প্রকল্প প্রতি বছর আমাদের মতো ছোট চাষিদের আর্থিক সংকট দূর করে।”
নতুন উপভোক্তা বিউটি বেগমের কথায়,
“আগে ফসল বিক্রি না হওয়া পর্যন্ত ধার শোধ করা যেত না। দুশ্চিন্তায় দিন কাটত। এই প্রকল্প সেই বোঝা অনেকটাই কমিয়ে দিয়েছে।”
বছরে সর্বাধিক ১০ হাজার টাকা সহায়তা
কৃষি দপ্তর সূত্রে খবর, কৃষক বন্ধু প্রকল্পে একজন কৃষককে বছরে সর্বনিম্ন ৪ হাজার থেকে সর্বাধিক ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত আর্থিক সহায়তা দেওয়া হয়। বছরে দু’টি মরসুমে, দুই কিস্তিতে সেই টাকা সরাসরি কৃষকের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে পৌঁছে যায়। এবারের খরিফ মরসুমের টাকা জেলাজুড়ে পৌঁছে গিয়েছে। বিশেষ করে হরিশ্চন্দ্রপুর-২ ব্লকে সবচেয়ে বেশি কৃষক এই প্রকল্পের সুবিধা পেয়েছেন।
জেলা কৃষি দপ্তরের উপ-অধিকর্তা বিদ্যুৎ কুমার বর্মন জানিয়েছেন,
“যাঁরা এখনো টাকা পাননি, তাঁরা ব্লক কৃষি দপ্তরে যোগাযোগ করলে দ্রুত সমস্যার সমাধান করা হবে।”
নতুন আবেদনও চলছে
সম্প্রতি আয়োজিত ‘পাড়ায় সমাধান’ শিবিরে আরও ১ হাজার ৮৫৭ জন কৃষক এই প্রকল্পের জন্য আবেদন করেছেন। এর মধ্যে ৪০০ জনের আবেদন ইতিমধ্যেই নথিভুক্ত হয়েছে এবং বাকিগুলির যাচাই চলছে বলে কৃষি দপ্তর সূত্রে খবর।
মালদহ জেলা পরিষদের কৃষি, সেচ ও সমবায় কর্মাধ্যক্ষ রবিউল ইসলাম বলেন,
“কৃষক বন্ধু ছাড়াও রাজ্য সরকার শস্যবীমা এবং সঠিক সময়ে বীজ সরবরাহের মাধ্যমেও কৃষকদের পাশে দাঁড়াচ্ছে।”







