কলকাতা পুলিশের জালে ধরা পড়ল আন্তর্জাতিক প্রতারণা চক্রের আরও দুই সদস্য। দিল্লির পালাম থানা এলাকায় হানা দিয়ে বুধবার বিকেলে গ্রেফতার করা হয়েছে নাইজেরিয়ার দুই নাগরিককে। অভিযোগ, ভুয়ো ই-মেল ও নথি বানিয়ে কলকাতার এক বাসিন্দার কাছ থেকে ১ কোটি টাকারও বেশি হাতিয়ে নিয়েছিল এই চক্র।
পুলিশ সূত্রে খবর, বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (WHO) ও ব্রিটেনের এক ওষুধ প্রস্তুতকারী সংস্থার নাম ভাঙিয়ে টোপ দেওয়া হয়েছিল বিনিয়োগের। ফাঁদে পড়ে অভিযোগকারী মোট ১ কোটি ১০ লক্ষ ৪১ হাজার ২৫০ টাকা পাঠিয়েছিলেন একাধিক ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে। পরে প্রতারণার বিষয়টি বুঝে থানায় অভিযোগ জানান তিনি।
তদন্তে নেমে কলকাতা পুলিশ প্রথমেই তিন নাইজেরীয় নাগরিককে গ্রেফতার করে। পরে আইপি অ্যাড্রেস, কল রেকর্ড ও আইএসপি তথ্য খতিয়ে দেখে চক্রের আরও দুই সদস্যের হদিস মেলে দক্ষিণ দিল্লির পালামে। ইনস্পেক্টর সোমা মাইতির নেতৃত্বে থাকা বিশেষ টিম বুধবার বিকেল ৫টা নাগাদ ওই এলাকায় অভিযান চালায়। দলের সঙ্গে ছিলেন সার্জেন্ট শান্তনু গায়েন এবং চার কনস্টেবল— জ়েড হোসেন, কে কর্মকার, এ সাহা ও এম জমাদার। দিল্লি পুলিশের সহযোগিতায় সফল হয় এই অভিযান।
গ্রেফতার হওয়া দুই অভিযুক্তের নাম এজিকে বেঞ্জামিন নওয়াবুনওয়ান্নে এবং বিলিভ ওন্যেচেলেম ঝন। ধৃতদের কাছ থেকে উদ্ধার হয়েছে ১২টি অ্যান্ড্রয়েড মোবাইল, দু’টি কি-প্যাড ফোন, একটি ল্যাপটপ, রাউটার, চারটি এটিএম কার্ড, দুটি ব্রিটেনের সিম কার্ড ও একটি পেন ড্রাইভ। ওই ঘর থেকেই নথি জাল করার কাজ চলত বলে অনুমান তদন্তকারীদের।
অভিযানের সময় ধৃতরা পালানোর চেষ্টা করলে ধস্তাধস্তিতে এক কনস্টেবল জখম হন। বর্তমানে দু’জনকে ট্রানজিট রিমান্ডে কলকাতায় আনার প্রক্রিয়া চলছে। পুলিশ মনে করছে, গোটা চক্রের সঙ্গে জড়িত আরও কয়েকজন এখনও দিল্লি ও অন্যান্য রাজ্যে সক্রিয়।







