কলকাতা লিগের মাঠে শেষ হয়ে গেল মোহনবাগানের আশা। প্রিমিয়ার ডিভিশনের গ্রুপ ‘এ’-তে সেরা তিনে জায়গা পাওয়ার সুযোগ হাতছাড়া হওয়ায় সবুজ-মেরুন শিবির আর লড়াইয়ে নেই। আইএসএল চ্যাম্পিয়ন হয়েও শহরের প্রাচীন লিগে এমন ব্যর্থতা সমর্থকদের হতাশ করেছে। সুরুচি ও কাস্টমসের জয় কার্যত কফিনে শেষ পেরেক পুঁতল মোহনবাগানের সুপার সিক্সে ওঠার স্বপ্নে।
পুরো টুর্নামেন্টে একাধিকবার দল নির্বাচন, কৌশল ও প্রস্তুতি নিয়ে প্রশ্ন উঠেছিল। আইএসএল মরশুম সামনে থাকায় অনেক তারকা খেলোয়াড়কে বিশ্রামে রাখা হয়েছিল। ফলে যে দল মাঠে নামছিল, সেখানে নিয়মিততা ছিল না। অন্যদিকে, প্রতিপক্ষরা নিজেদের শক্তি ও সুযোগ কাজে লাগিয়ে এগিয়ে গেছে। এর ফলেই সেরা তিনের তালিকা থেকে ক্রমশ পিছিয়ে পড়েছে মোহনবাগান।
পরিস্থিতি এমন দাঁড়িয়েছে যে, যদি বিতর্কিত ম্যাচ পুনরায় আয়োজনও হয় এবং সেখানে মোহনবাগান জিতেও যায়, তবু গ্রুপের সেরা তিনে থাকা সম্ভব নয়। অর্থাৎ কাগজে-কলমে সব রাস্তা বন্ধ হয়ে গেল। কলকাতা লিগের ইতিহাসে মোহনবাগানের সাফল্যের ঝুলি সমৃদ্ধ হলেও সাম্প্রতিক সময়ে তারা বারবার ব্যর্থতার মুখে পড়ছে। এই ফল আবারও মনে করাল যে আইএসএল ও কলকাতা লিগ—দুটো ভিন্ন মঞ্চ, আর প্রস্তুতিও তেমন আলাদা চাই।
এবারের ব্যর্থতা সবুজ-মেরুন কর্তাদের সামনে নতুন প্রশ্ন তুলে দিল। স্থানীয় লিগে গুরুত্ব না দিলে ঐতিহ্য ধরে রাখা কতটা সম্ভব? সমর্থকরা চাইছেন, আগামী মৌসুমে আইএসএলের পাশাপাশি কলকাতা লিগেও দল যেন লড়াইয়ের মানসিকতা নিয়ে নামে। আপাতত মোহনবাগানের ভাগ্যে রয়ে গেল শুধুই হতাশার গল্প।







