নিজস্ব সংবাদদাতা: ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনের আগে পশ্চিমবঙ্গ বিজেপির সাংগঠনিক কাঠামোতে বড়সড় রদবদলের সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। দলের কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব এবং আরএসএস সূত্রে খবর, অন্তত সাতটি সাংগঠনিক জেলার সভাপতির বিরুদ্ধে অসন্তোষ চরমে উঠেছে। এই সাতজনকে খুব শীঘ্রই সরিয়ে দেওয়া হতে পারে বলেই ইঙ্গিত মিলছে।
বিশ্বাসযোগ্য সূত্র জানাচ্ছে, দলের অন্দরে এদের বিরুদ্ধে একাধিক স্বজনপোষণ, দলে গোষ্ঠীদ্বন্দ্ব উস্কে দেওয়া এবং তৃণমূল নেতাদের সঙ্গে গোপন যোগাযোগ রাখার মতো অভিযোগ উঠেছে। এর জেরেই আরএসএস-এর কাছে একাধিক লিখিত অভিযোগ জমা পড়ে। এরপর থেকেই আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে চলে আসেন এই সাত নেতা।
কে যাবে, কে থাকবে? তালিকা প্রস্তুত
জানা গিয়েছে, এই সাতজনের নাম ইতিমধ্যেই দলের শীর্ষ নেতৃত্ব চূড়ান্ত করে ফেলেছে। পরিবর্তন হলে শুধুমাত্র সভাপতির পদেই নয়, জেলা কমিটির অন্যান্য পদেও আমূল পরিবর্তন আসবে বলে খবর। আরএসএস ঘনিষ্ঠ, সৎ ও নিষ্ঠাবান নেতাকর্মীদের জেলা নেতৃত্বে আনতেই এই সিদ্ধান্ত।
কেন এই রদবদল জরুরি?
বিজেপির অন্দরমহলের মতে, মে মাসে ৩৯টি সাংগঠনিক জেলার সভাপতি নিয়োগের পর থেকেই বুথ এবং মণ্ডল স্তরে গোষ্ঠীকোন্দল, অভ্যন্তরীণ বিদ্রোহ, পোস্টার-বিক্ষোভ ইত্যাদি বাড়তে থাকে। দক্ষিণ কলকাতা ও হুগলি জেলার নেতাদের বিরুদ্ধে পোস্টার পড়া সেই অস্থিরতারই চরম প্রকাশ বলে মনে করছেন পর্যবেক্ষকরা।
১৫ অগাস্টের মধ্যে জেলা কমিটি গঠনের নির্দেশ
বিজেপি সূত্রে খবর, কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব রাজ্য বিজেপিকে নির্দেশ দিয়েছে আগামী ১৫ অগাস্টের মধ্যে ৪৩টি সাংগঠনিক জেলার পূর্ণাঙ্গ কমিটি তৈরি করতে। এই কমিটি তৈরি হলেই রাজ্য কমিটি গঠনের কাজ শুরু হবে।
তাই সভাপতির পদে যাঁরা প্রশ্নবিদ্ধ, তাঁদের সরিয়ে বিশ্বস্ত ও কর্মঠ মুখ সামনে আনতেই এই তৎপরতা।
আরএসএসের বাড়তি নজর
বিজেপির সাংগঠনিক ভবিষ্যতের দায়িত্ব কার্যত তুলে দেওয়া হয়েছে আরএসএস ঘনিষ্ঠ নেতৃত্বের ওপর। জেলা, মণ্ডল ও বুথ স্তরে নেতাকর্মী নির্বাচনে এখন গুরুত্ব পাচ্ছেন অভিযোগহীন, মাটি ঘেঁষা ও নিষ্ঠাবান কর্মীরা। শুধু দলীয় আনুগত্য নয়, আরএসএসের ‘বিশ্বাসভাজন’ হওয়াও এবার বড় মাপকাঠি।
রাজনৈতিক বিশ্লেষণ:
এই রদবদলের মাধ্যমে পশ্চিমবঙ্গে বিজেপি তার ঘর গোছানোর বার্তা দিচ্ছে। তৃণমূলকে টক্কর দিতে হলে সংগঠনের ভিত মজবুত করা ছাড়া উপায় নেই— সেই লক্ষ্যেই দলে নতুন ছাঁটাছাঁটি।







