আঠারো বছরের দীর্ঘ প্রতীক্ষার অবসান ঘটল অবশেষে। ২০০৭ সালের পর প্রথমবার ঘরের মাঠে অস্ট্রেলিয়ার বিরুদ্ধে একদিনের ম্যাচে জয় পেল ভারতীয় মহিলা দল। বুধবার নয়াদিল্লির নিউ চণ্ডীগড়ে দ্বিতীয় ওয়ানডেতে স্মৃতি মন্ধানার দুর্দান্ত সেঞ্চুরি এবং বোলারদের শৃঙ্খলিত প্রদর্শনে ভারত ১০২ রানে হারাল অস্ট্রেলিয়াকে। এই জয়ে তিন ম্যাচের সিরিজে সমতা ফেরাল হারমনের দল।
টস হেরে ব্যাট করতে নেমে শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক ছিলেন মন্ধানা। মাত্র ৭৭ বলে তুলে নেন তাঁর ক্যারিয়ারের ১২তম শতরান, যা ভারতের পক্ষে দ্বিতীয় দ্রুততম। তাঁর ব্যাটে ১২টি চার ও ৩টি ছক্কায় সাজানো ১১৭ রানের ঝকঝকে ইনিংসই হয়ে ওঠে ম্যাচের মোড় ঘোরানোর মূল হাতিয়ার। যদিও অন্য প্রান্তে বড় রান আসেনি—দীপতি শর্মা ৪০ রান করে ভরসা জোগালেও প্রীতি রাওয়াল এবং হরলিন দেওল অস্ট্রেলীয় বোলিংয়ের ফাঁদে আটকে পড়েন। শেষ পর্যন্ত ২৯২ রানে থামে ভারতের ইনিংস, যা প্রত্যাশার তুলনায় কিছুটা কম মনে হলেও যথেষ্ট প্রমাণিত হয়।
চেজ করতে নেমে শুরুতেই চাপে পড়ে অস্ট্রেলিয়া। চোট কাটিয়ে ফেরা রেণুকা সিং মাত্র ছয় বলের মধ্যেই ভেঙে দেন প্রতিপক্ষের টপ অর্ডার। এরপর ক্রান্তি গৌড় দ্বিতীয় ম্যাচেও অ্যালিসা হিলিকে ফিরিয়ে ভারতীয় শিবিরে এনে দেন বাড়তি আত্মবিশ্বাস। এলিস পেরি ও সাদারল্যান্ড কিছুটা প্রতিরোধ গড়লেও স্নেহ রানা, রাধা যাদব ও দীপ্তির স্পিন আক্রমণের সামনে ভেঙে পড়ে অজিদের ব্যাটিং লাইনআপ। ৪৫ রানে লড়াই করা সাদারল্যান্ড এবং ৪৪ রানে থেমে যাওয়া পেরি ছাড়া আর কেউ দাঁড়াতে পারেননি।
শেষ পর্যন্ত ১৯০ রানে গুটিয়ে যায় অস্ট্রেলিয়া, যা তাদের ওয়ানডে ইতিহাসের সবচেয়ে বড় হারের নজির। ভারতের এই জয় শুধু সিরিজ সমতায় ফেরাল না, বরং ঘরের মাঠে অস্ট্রেলিয়ার বিরুদ্ধে আত্মবিশ্বাস পুনরুদ্ধারেরও ইঙ্গিত দিল। দীর্ঘ বিরতির পর এমন সাফল্য নারী ক্রিকেটে ভারতের এগিয়ে চলার বার্তা বহন করছে নিঃসন্দেহে।







