দুর্গাপুর: দুর্গাপুর গণধর্ষণকাণ্ডে নতুন করে তপ্ত হল রাজনীতি। রবিবার নির্যাতিতার বাবার সঙ্গে কথা বলতে গিয়ে বিজেপি কর্মীদের সঙ্গে বচসায় জড়িয়ে পড়লেন ‘অভয়া মঞ্চ’ ও ‘ওয়েস্ট বেঙ্গল ডক্টরস ফোরাম’-এর সদস্যরা। ঘটনাস্থলে উপস্থিতদের একাংশের দাবি, তর্কাতর্কি এমন পর্যায়ে পৌঁছে যায় যে দু’পক্ষই একে অপরের দিকে আঙুল তুলে উচ্চস্বরে তর্ক শুরু করেন। পরে পরিস্থিতি সামাল দিতে নির্যাতিতার বাবাকে বিজেপি কর্মীরা সেখান থেকে সরিয়ে নিয়ে যান।
জানা গিয়েছে, আরজি কর আন্দোলনের সময় সক্রিয় থাকা এই দুই সংগঠনের প্রতিনিধিরা রবিবার দুর্গাপুরে যান নির্যাতিতার পরিবারের সঙ্গে দেখা করতে। সূত্রের খবর, তাঁরা নির্যাতিতার বাবার সঙ্গে কথা বলার সময় আরজি কর আন্দোলনের প্রসঙ্গ তোলেন, নিজেদের আন্দোলনের অভিজ্ঞতা জানান এবং নির্যাতিতার বাবার ফোন নম্বর চান। ঠিক সেই সময় এক ব্যক্তি নির্যাতিতার বাবার কানে কিছু বলেন, তারপর কয়েকজন মিলে তাঁকে সেখান থেকে সরিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করেন। স্থানীয় সূত্রের দাবি, তাঁরা সকলে বিজেপি কর্মী।
এই নিয়েই শুরু হয় উত্তেজনা। অভিযোগ, এক বিজেপি কর্মী বলেন, “আপনারা কত জাস্টিস দেবেন, আমরা জানি।” সেই মন্তব্য ঘিরেই দুই পক্ষের মধ্যে শুরু হয় তীব্র বাকবিতণ্ডা। এক পক্ষ প্রশ্ন তোলে, “সিবিআই কী করেছে?” অপর পক্ষের পাল্টা, “আপনারা কী করেছেন?” ক্রমে পরিস্থিতি তপ্ত হয়ে ওঠে, কিন্তু শেষ পর্যন্ত নির্যাতিতার বাবাকে সরিয়ে নেওয়ার পর পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়।
ঘটনাটির ভিডিও ইতিমধ্যেই ভাইরাল সোশ্যাল মিডিয়ায়। পাণ্ডবেশ্বরের তৃণমূল বিধায়ক তথা জেলা সভাপতি নরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী পোস্টটি শেয়ার করে লিখেছেন, “ঘোলা জলে মাছ ধরাধরি। এরা কি আদৌ অপরাধীদের বিচার চায়, নাকি রাজনীতি করে দুর্গাপুরের বদনাম করতে চায়? এসি বাসে চেপে কলকাতা থেকে আসা সিপিএম-নকশালদের মদতপুষ্ট অভয়া মঞ্চ ও স্থানীয় সিপিএম-বিজেপির টানাহেঁচড়া, সবটাই নির্যাতিতার বাবাকে নিয়ে।”
এই ঘটনায় অস্বস্তিতে পড়েছে বিজেপিও। রাজ্য বিজেপি নেতা কৃষ্ণেন্দু মুখোপাধ্যায় বলেন, “কে কাকে কী বলল, সে দিকে না তাকিয়ে পুলিশ যেন দোষীদের দ্রুত গ্রেফতার করে। দুর্গাপুরের রাস্তায় আলো নেই, সিসিটিভি নেই — এগুলোই দেখা উচিত।”
অন্যদিকে, ‘ওয়েস্ট বেঙ্গল ডক্টরস ফোরাম’-এর পক্ষ থেকে সংক্ষিপ্ত প্রতিক্রিয়া, “ঘটনাটি অনভিপ্রেত। এমনটা হওয়া উচিত ছিল না।”
দুর্গাপুর গণধর্ষণকাণ্ডে নির্যাতিতার পরিবারের পাশে দাঁড়ানোর নাম করে রাজনৈতিক তরজার এই দৃশ্য সামনে আসতেই চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে রাজ্যজুড়ে।







