ওজন কমানো ও ডায়াবিটিসের চিকিৎসায় বিশ্বজুড়ে আলোড়ন তোলা ওষুধ সেমাগ্লুটাইড–এর জনপ্রিয় ব্র্যান্ড ‘ওজ়েম্পিক’ (Ozempic)-কে এবার আনুষ্ঠানিক অনুমোদন দিল ভারতের কেন্দ্রীয় ওষুধ নিয়ন্ত্রক সংস্থা CDSCO। ডেনমার্কের সংস্থা নোভো নর্ডিক্স তৈরি করে এই ওষুধ, যা ইতিমধ্যেই বিশ্বের বহু দেশে ব্যবহৃত হচ্ছে। এবার ভারতের বাজারেও খুলে গেল তার দরজা।
এর আগে সেমাগ্লুটাইডের অন্য দুটি ভার্সন — উইগোভি (Wegovy) ও রাইবেলসাস (Rybelsus) — ভারতে ছাড়পত্র পেয়েছিল। উইগোভি ব্যবহার করা হয় স্থূলতা বা ওবেসিটি কমানোর জন্য, আর রাইবেলসাস মূলত ডায়াবিটিস নিয়ন্ত্রণে সাহায্য করে। এবার তুলনামূলক কম ডোজ়ের ইনজেকশন ওজ়েম্পিক-ও অনুমোদন পেল, যা রক্তে শর্করা নিয়ন্ত্রণের পাশাপাশি ওজন কমাতেও কার্যকর বলে চিকিৎসকরা জানাচ্ছেন।
নোভো নর্ডিক্স জানিয়েছে, ২০২৬ সালের মধ্যেই ভারতে ওজ়েম্পিকের উৎপাদন ও বিক্রি শুরু হবে। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই ইনজেকশন বাজারে এলে ওজন কমানোর ওষুধের ক্ষেত্রে প্রতিযোগিতা আরও বাড়বে। কারণ, কয়েক মাস আগেই মার্কিন সংস্থা ইলাই লিলি-র টিরজেপাটাইড ইনজেকশন (Mounjaro) ভারতীয় বাজারে অনুমোদন পেয়েছে। ফলে এখন স্থূলতা চিকিৎসায় ভারতও আন্তর্জাতিক ফার্মা লড়াইয়ের বড় খেলোয়াড় হয়ে উঠছে।
বর্তমানে উইগোভির এক মাসের কোর্সের দাম প্রায় ১৭ থেকে ২৬ হাজার টাকা। তবে আগামী বছর মার্চে সেমাগ্লুটাইডের পেটেন্ট শেষ হলে ভারতীয় কোম্পানিগুলিও এই ওষুধ তৈরি করতে পারবে। তাতে দাম অনেকটাই কমে যাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
ওজ়েম্পিক কীভাবে কাজ করে:
এটি শরীরে ইনসুলিন নিঃসরণ বাড়িয়ে রক্তে সুগার নিয়ন্ত্রণ করে।
একই সঙ্গে এটি ক্ষুধা কমায়, ফলে ওজন হ্রাস পায়।
এটি সপ্তাহে একবার ইনজেকশন হিসেবে নিতে হয়, যা তুলনামূলক সহজ ও ঝুঁকিহীন পদ্ধতি।
চিকিৎসা বিশেষজ্ঞদের আশা, ওজ়েম্পিকের আগমনে ভারতের ডায়াবিটিস ও স্থূলতা চিকিৎসা এক নতুন দিগন্তে পৌঁছবে — আর সাধারণ মানুষের হাতের নাগালেও আসবে এই ‘জাদুকরি’ ইনজেকশন







