কেন্দ্রীয় বাজেট নিয়ে যখন তীব্র আক্রমণে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়, ঠিক তখনই সম্পূর্ণ ভিন্ন সুরে বাজেটের প্রশংসায় সরব হলেন রাজ্যপাল সিভি আনন্দ বোস। তাঁর মতে, এই বাজেট দেশের যুবসমাজ ও মহিলাদের কথা মাথায় রেখেই পেশ করেছেন কেন্দ্রীয় অর্থমন্ত্রী নির্মলা সীতারমন। রাজ্যপালের দাবি, অনিশ্চিত বিশ্ব অর্থনীতির মধ্যেও এই বাজেট স্থায়িত্ব ও দীর্ঘমেয়াদি বৃদ্ধির বার্তা দিয়েছে।
বাজেট পেশের পর রাজ্যপাল বোস বলেন, “ভবিষ্যতের কথা ভেবেই এই বাজেট আনা হয়েছে। বিশ্ব অর্থনীতি এখন কঠিন সময়ের মধ্যে দিয়ে যাচ্ছে। সেই পরিস্থিতিতে এই বাজেটে স্থায়িত্বের পাশাপাশি উন্নয়নের রূপরেখা স্পষ্ট।” তাঁর মতে, দীর্ঘমেয়াদি উন্নয়নকে সামনে রেখে শিক্ষা, স্বাস্থ্য, শিল্প ও পরিকাঠামোয় বিশেষ জোর দেওয়া হয়েছে।
মুখ্যমন্ত্রী যখন বাজেটকে ‘মিথ্যে কথার ফুলঝুরি’ বলে কটাক্ষ করছেন, তখন রাজ্যপাল পাল্টা যুক্তি দিয়ে বলেন, বিভিন্ন ফ্রেট করিডর ও হাই-স্পিড রেল করিডরের ঘোষণার ফলে শিল্পায়ন বাড়বে এবং কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি হবে। বিশেষ করে নারী শক্তি ও যুব সমাজকে কেন্দ্র করে এই বাজেট রচিত হয়েছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
রাজ্যপাল বোসের বক্তব্য, “এই বাজেট নারীদের জন্য, যুবকদের জন্য। ডিজিটাল পরিষেবা ও স্টার্ট আপ ক্ষেত্রেও গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।” মুখ্যমন্ত্রীর ‘বাংলাকে বঞ্চনা’র অভিযোগের জবাবে রাজ্যপাল বলেন, বাজেটে বাংলার জন্য যথেষ্ট সম্ভাবনা রয়েছে। শিক্ষা ও স্বাস্থ্য খাতে বরাদ্দ বাড়ানোয় রাজ্যে আরও হাসপাতাল ও মেডিক্যাল কলেজ গড়ে ওঠার সুযোগ তৈরি হবে।
তিনি আরও জানান, শিল্প, এমএসএমই এবং স্কিল ডেভেলপমেন্টে জোর দেওয়ার ফলে বাংলার যুবকদের জন্য কর্মসংস্থানের পথ প্রশস্ত হবে। কেন্দ্র ও রাজ্যের মধ্যে চলমান টানাপোড়েনের আবহে কার্যত খোঁচা দিয়ে রাজ্যপাল বলেন, “এই বাজেটে কেন্দ্র ও রাজ্যের পারস্পরিক সহযোগিতার কথাও বলা হয়েছে। এখন আমাদের দায়িত্ব, বাজেটে যে প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছে, তার প্রকৃত সুফল যেন প্রতিটি বাঙালির কাছে পৌঁছায়।”







