ফের পাকিস্তান ও আফগানিস্তানের সম্পর্ক নিয়ে উত্তেজনার সৃষ্টি হয়েছে। বৃহস্পতিবার কাবুলে ক্ষেপণাস্ত্রের সাহায্যে হামলা চালিয়েছে ইসলামাবাদ। অন্যদিকে এই উত্তেজনার কারণে মাত্র ১ দিনের মধ্যে পাকিস্তান ও ইরান মিলিয়ে আফগানিস্তানে ফেরত এসেছে প্রায় ৭০০-র বেশি আফগান পরিবার।
জাতিসংঘের শরণার্থী সংস্থার (UNHCR) আফগানিস্তান প্রতিনিধি ফারামারজ বারজিন এই বার্তা দিয়েছে। সেই বার্তা থেকে জানা গেছে চলতি বছরের ১ লা সেপ্টেম্বর থেকে ৪ ঠা অক্টোবর পর্যন্ত পাকিস্তান থেকে প্রায় ১ লক্ষ ৭১ হাজার আফগান নাগরিক নিজ দেশে ফিরে এসেছেন। তিনি আরও জানান, শুধুমাত্র গত ২৪ ঘণ্টাতেই ৭৭০টি পরিবার পাকিস্তান ও ইরান থেকে আফগানিস্তানে প্রবেশ করেছে।
পাশাপাশি আফগান দাবি করেছে পাকিস্তানে অবস্থানরত আফগান শরণার্থীদের পরিস্থিতি বর্তমানে ভয়াবহ। অনেকেই অভিযোগ করছেন, জোরপূর্বক নির্বাসন, আটক ও ভিসা নবায়নের সুযোগ না দেওয়ার কারণে তাঁরা বিপাকে পরেছেন।
অন্যদিকে, জেনেভায় অনুষ্ঠিত হচ্ছে UNHCR নির্বাহী বৈঠক। যেখানে পাকিস্তানের প্রতিনিধি আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের কাছে আবেদন করেছে যাতে আফগান শরণার্থীদের দেশে ফেরাতে সহায়তা করে। ২০২৩ সালের শুরু থেকেই পাকিস্তান সরকার আফগান নাগরিক কার্ড ও নিবন্ধনের প্রমাণপত্র বাতিল করেছে। এরপরেই দেশজুড়ে কয়েক লক্ষ আফগান শরণার্থীকে বহিষ্কার করা হচ্ছে।
তবে বিশ্লেষকদের মতে, এই শরণার্থী ইস্যুতে শুধু মাত্র মানবিক সঙ্কট হয়েছে এমনটা নয়। একইসঙ্গে দুই দেশের রাজনৈতিক ও নিরাপত্তা টানাপোড়েনও দেখা দিয়েছে। ইসলামাবাদের বহুদিনের অভিযোগ, আফগানিস্তান সন্ত্রাসবাদীদের আশ্রয় দিচ্ছে। মূলত, তেহরিক-ই-তালিবান পাকিস্তানের বাড়বাড়ন্তে পাকিস্তানের ক্ষোভ আরো কয়েক গুণ বেড়ে গেছে। এমনকি ওরাকজাই জেলায় সাম্প্রতিক সংঘর্ষে পাকিস্তানি সেনাবাহিনীর এক লেফটেন্যান্ট কর্নেল, এক মেজর সহ ১১ জন নিরাপত্তাকর্মী প্রাণ হারিয়েছে। যার ফলে সীমান্তপারে পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠেছে। তাই বর্তমানে এই দুই দেশের সংঘাত শুধুমাত্র সীমান্তের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। বরং এই সংঘাতের আঁচ এসে পরেছে দক্ষিণ এশিয়ার আঞ্চলিক স্থিতিশীলতার ওপর বলে অনুমান কূটনীতিবিদদের।







