আসন্ন পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনের আগে ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন (এসআইআর) নিয়ে চূড়ান্ত প্রস্তুতি নিচ্ছে নির্বাচন কমিশন। গত ২৩ বছরে ভোটার তালিকায় জমা হওয়া সমস্ত ত্রুটি, মৃত এবং অবৈধ ভোটারের নাম বাদ দিয়ে একটি নিখুঁত তালিকা তৈরি করাই এই পরিকল্পনার মূল উদ্দেশ্য। কমিশন চাইছে, এই এসআইআর-এর চূড়ান্ত তালিকা ধরেই আগামী বিধানসভা নির্বাচন অনুষ্ঠিত হোক। কমিশনের এই নিবিড় সংশোধন প্রক্রিয়ায় প্রতিটি ভোটারের বাড়িতে ‘এনুমারেশন ফর্ম’ পাঠানো হচ্ছে বুথ লেভেল অফিসারদের (বিএলও) মাধ্যমে। এই ফর্মের সঙ্গে ভোটারকে প্রমাণস্বরূপ ১১টি নির্দিষ্ট নথির মধ্যে যেকোনো একটি জমা দিতে হচ্ছে। তবে একটি বড় স্বস্তি হলো যাঁদের নাম ২০০২ সালের ভোটার তালিকায় রয়েছে, তাঁদের কোনো নথি দেখাতে হয় না।
বিরোধী রাজনৈতিক দলগুলি এই প্রক্রিয়ার পেছনে ‘রাজনৈতিক উদ্দেশ্য’ দেখছে। তাদের অভিযোগ, এটি বিজেপি
এর সেই পরিকল্পনার অংশ, যার মাধ্যমে বাংলাদেশ ও মায়ানমার থেকে আসা অনুপ্রবেশকারী ভোটারদের নাম বাদ দেওয়া হবে। কমিশন স্পষ্টভাবে জানাচ্ছে, কারচুপি করে তালিকায় নাম তোলা ব্যক্তিরা ‘অবৈধ ভোটার’ হিসেবে চিহ্নিত হবেন। যদি কোনো ভোটার ১১টি নথির একটি তৈরি করতে পারলেও ২০০২ সালের তালিকায় বাবা বা মায়ের নাম দেখাতে না পারেন, তবে তাঁর নাগরিকত্ব নিয়ে প্রশ্ন ওঠে এবং নাম বাদ যাওয়ার সম্ভাবনা থাকে। আধিকারিকদের প্রাথমিক অনুমান, ২০০২ সালের পর থেকে মৃত, অন্যত্র চলে যাওয়া এবং অবৈধ ভোটারের নাম মিলিয়ে এক কোটিরও বেশি নাম তালিকা থেকে বাদ পড়তে পারে।
যাঁদের নাম বর্তমান তালিকায় নেই, তাঁদের ৬ নম্বর ফর্মে আবেদন করে নতুন করে নাম নথিভুক্ত করতে হচ্ছে। কমিশন চূড়ান্তভাবে জানাচ্ছে, এসআইআর প্রক্রিয়ায় অংশ না নিলে নতুন ভোটার তালিকা থেকে নাম বাদ যাবে এবং সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি আগামী নির্বাচনে ভোট দিতে পারবেন না।







