সোমবার সন্ধ্যায় দিল্লি কেঁপে উঠেছিল ভয়াবহ গাড়ি বিস্ফোরণে। ঠিক তার পরদিনই পাকিস্তানের রাজধানী ইসলামাবাদে ফের বিস্ফোরণে মৃত্যু হল অন্তত ১২ জনের, আহত ২৭। পরপর দুই রাজধানীতে গাড়ি বিস্ফোরণ ঘিরে আন্তর্জাতিক কূটনৈতিক অস্বস্তি তৈরি হয়েছে।
ইসলামাবাদের বিস্ফোরণস্থল ছিল এক আদালত চত্বর। পাকিস্তানের সংবাদমাধ্যম সূত্রে জানা গিয়েছে, ইসলামাবাদে এই হামলার দায় স্বীকার করেছে তেহরিক-ই-তালিবান পাকিস্তান (টিটিপি)। তবে টিটিপি আত্মঘাতী হামলা বললেও, পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরিফ অভিযোগ করেছেন, “এটি ভারতের রাষ্ট্রীয় মদদপুষ্ট সন্ত্রাসবাদের ধারাবাহিকতা।”
পাক সংবাদসংস্থা এপিপি জানিয়েছে, প্রধানমন্ত্রী বলেন, “ভারতের স্পনসর করা জঙ্গিরা পাকিস্তানকে অস্থিতিশীল করার ষড়যন্ত্র চালাচ্ছে। এই হামলা তারই অংশ।”
যদিও, তাঁর অভিযোগের সপক্ষে কোনও প্রমাণ উপস্থাপন করতে পারেননি শেহবাজ শরিফ।
পাক প্রতিরক্ষামন্ত্রী আসিফ খোয়াজা আরও এক ধাপ এগিয়ে আফগানিস্তানের দিকে আঙুল তোলেন। তাঁর দাবি, আফগান ভূখণ্ড ব্যবহার করেই পাকিস্তানে জঙ্গি নেটওয়ার্ক সক্রিয়।
শেহবাজ শরিফ বলেন, “আফগানিস্তানকে বুঝতে হবে, টিটিপি এবং আফগান ভূখণ্ড থেকে পরিচালিত সন্ত্রাসী সংগঠনগুলিকে নিয়ন্ত্রণ করলেই স্থায়ী শান্তি আসবে।”
উল্লেখ্য, ডুরান্ড লাইন ঘিরে গত কয়েক সপ্তাহ ধরেই আফগানিস্তান-পাকিস্তান সীমান্তে সংঘর্ষ চলছে, যার জেরে দুই দেশের সম্পর্ক চরম তিক্ত।
বাংলাদেশের প্রতিক্রিয়া:
এদিকে, দিল্লি বিস্ফোরণ নিয়ে ভারতের কিছু সংবাদমাধ্যমে বাংলাদেশের নাম টানা হচ্ছে বলে অভিযোগ তুলেছেন ঢাকা। বাংলাদেশের বিদেশ মন্ত্রকের উপদেষ্টা তৌহিদ হোসেন তীব্র প্রতিক্রিয়া জানিয়ে বলেন,
“ভারতের গণমাধ্যমের মনগড়া ও দায়সারা প্রতিবেদন দুই দেশের সম্পর্কের জন্য মোটেই ইতিবাচক নয়। বাংলাদেশ বরাবরই সন্ত্রাস ও জঙ্গিবাদের বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতি মেনে এসেছে।”
তৌহিদ আরও বলেন, “যাই ঘটুক না কেন, ভারতের কিছু সংবাদমাধ্যম সব সময় দোষ চাপানোর চেষ্টা করে। এসব কথা বিশ্বাস করার কোনও কারণ নেই। বিবেকবান মানুষ এসব বিশ্বাস করবে না।”
দিল্লি বিস্ফোরণে নিহতদের প্রতি গভীর শোকপ্রকাশ করেছে ভারতে অবস্থিত বাংলাদেশের হাইকমিশনও।
সমগ্র ঘটনাপ্রবাহে স্পষ্ট, একদিকে দক্ষিণ এশিয়ায় সন্ত্রাসের ছায়া ঘন হচ্ছে, অন্যদিকে প্রতিবেশী দেশগুলির পারস্পরিক অবিশ্বাস ও অভিযোগে বাড়ছে কূটনৈতিক টানাপড়েন।







