রাজ্য

ভোটের আগে নজিরবিহীন প্রশাসনিক রদবদল, কমিশনের কড়া পদক্ষেপে তপ্ত রাজনীতি

আসন্ন West Bengal Assembly Election 2026-কে ঘিরে রাজ্যে নজিরবিহীন প্রশাসনিক রদবদলের পথে হাঁটছে নির্বাচন কমিশন। Election Commission of India-এর এই পদক্ষেপে স্পষ্ট—পুরনো ছক ভেঙে নতুন কৌশলে ভোট পরিচালনার প্রস্তুতি চলছে।

বুধবার একাধিক জেলায় জেলা শাসকদের (ডিএম) বদল করে কমিশন। নিয়ম মেনে তাঁদের নতুন পোস্টিং দেয় নবান্ন। তবে সেই প্রক্রিয়ার মধ্যেই ছয়জন আইএএস আধিকারিককে ভিনরাজ্যে অবজার্ভার হিসেবে পাঠানোর নির্দেশ দেয় কমিশন। যাঁদের মধ্যে রয়েছেন প্রীতি গোয়েল, রানি আয়েশা, অরবিন্দ কুমার মিনা, সিয়াদ এন, শামা পারভিন এবং পঞ্চায়েত সচিব উল্গানাথান।

কমিশনের নির্দেশ অনুযায়ী, এই আধিকারিকদের তিন দফায় Tamil Nadu-তে যেতে হবে—প্রথম দফায় শুক্রবারের মধ্যে, দ্বিতীয় দফায় ৩০ মার্চ থেকে ভোট শেষ হওয়া পর্যন্ত এবং তৃতীয় দফায় গণনার দু’দিন আগে। এর আগে আইপিএস আধিকারিকদের ক্ষেত্রেও একই ধরনের পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছিল।

সূত্রের খবর, আরও ১৫ জন আইএএস আধিকারিককে অবজার্ভার হিসেবে প্রশিক্ষণের জন্য দিল্লিতে পাঠানো হয়েছিল। যাঁদের এখনও নির্দেশ আসেনি, তাঁদের ক্ষেত্রেও বদলের সম্ভাবনা উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না।

কমিশনের তরফে জারি নির্দেশিকায় জানানো হয়েছে, আসন্ন নির্বাচনে আইনশৃঙ্খলা ও প্রশাসনিক নিরপেক্ষতা বজায় রাখতেই এই সিদ্ধান্ত। কমিশনের দাবি, শান্তিপূর্ণ ও অবাধ ভোট নিশ্চিত করতে এই ধরনের কঠোর পদক্ষেপ জরুরি।

ভোট ঘোষণার পর থেকেই প্রশাসনের শীর্ষস্তরে একের পর এক বদল করে চলেছে কমিশন। মুখ্যসচিব, স্বরাষ্ট্রসচিব, পুলিশ কমিশনার, ডিজি, ডিআইজি থেকে শুরু করে জেলা স্তরের একাধিক পদে রদবদল হয়েছে ইতিমধ্যেই।

এই পরিস্থিতিতে সরব হয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী Mamata Banerjee। মুখ্য নির্বাচন কমিশনার Gyanesh Kumar-কে একাধিক চিঠিতে তিনি অভিযোগ করেছেন, এই গণ-বদল একতরফা এবং রাজ্যের প্রশাসনিক কাঠামোর উপর গুরুতর আঘাত।

মুখ্যমন্ত্রীর বক্তব্য, কমিশনের সাম্প্রতিক কার্যপদ্ধতি সাংবিধানিক শিষ্টাচারের সীমা অতিক্রম করেছে। বিশেষ করে স্পেশাল ইনটেনসিভ রিভিশন (SIR) প্রক্রিয়া চলাকালীন কমিশনের ভূমিকা নিয়ে তিনি প্রশ্ন তুলেছেন। তাঁর অভিযোগ, কমিশনের পদক্ষেপে পক্ষপাতদুষ্টতার ছাপ রয়েছে এবং তা বাস্তব পরিস্থিতি ও জনস্বার্থের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়।

রাজনৈতিক মহলের একাংশের মতে, এই নজিরবিহীন প্রশাসনিক রদবদলই ইঙ্গিত দিচ্ছে—২০২৬-এর ভোটে কমিশন কোনও ঝুঁকি নিতে নারাজ। অন্যদিকে, শাসক দলের অভিযোগে নতুন করে উত্তপ্ত হচ্ছে রাজ্য রাজনীতি।

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Adblock Detected

Please Turn Off Your Ad Blocker.