রাজনীতি

তৃণমূলে বালুর ভবিষ্যৎ নিয়ে জল্পনা, ঋতব্রতের সঙ্গে সম্ভাব্য সাক্ষাৎ ঘিরে রাজনৈতিক চর্চা তুঙ্গে

বাংলার রাজনীতিতে ফের নতুন জল্পনা। ১৯৯৮ সালে দল প্রতিষ্ঠার সময় থেকে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের অন্যতম ঘনিষ্ঠ সহযোগী হিসেবে পরিচিত জ্যোতিপ্রিয় মল্লিক ওরফে বালু কি এবার তৃণমূল কংগ্রেসের সঙ্গে দীর্ঘদিনের সম্পর্কের ইতি টানতে চলেছেন? সম্প্রতি দলের সমস্ত সাংগঠনিক পদ থেকে ইস্তফা দেওয়ার পর থেকেই তাঁর রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ নিয়ে নানা আলোচনা শুরু হয়েছে।

রাজনৈতিক মহলের সূত্রে খবর, আজ দুপুর সাড়ে বারোটা নাগাদ বিধানসভায় বিরোধী দলনেতা ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে দেখা করতে পারেন প্রাক্তন খাদ্যমন্ত্রী জ্যোতিপ্রিয় মল্লিক। এই সম্ভাব্য সাক্ষাৎকে কেন্দ্র করেই জোরদার হয়েছে রাজনৈতিক জল্পনা। অনেকের প্রশ্ন, তবে কি তিনি নতুন রাজনৈতিক পথ বেছে নিতে চলেছেন? যদিও জ্যোতিপ্রিয় মল্লিক নিজে এই জল্পনা উড়িয়ে দিয়ে জানিয়েছেন, তিনি কোনও রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে নয়, বিধায়ক পেনশন সংক্রান্ত নথিপত্রের কাজেই বিধানসভায় এসেছেন।

কয়েক দিন আগেই তৃণমূল কংগ্রেসের নবগঠিত ওয়ার্কিং কমিটি-সহ দলের সমস্ত পদ থেকে সরে দাঁড়ানোর সিদ্ধান্ত নেন তিনি। পদত্যাগের কারণ হিসেবে তিনি শারীরিক অসুস্থতার কথা উল্লেখ করে দলনেত্রীকে চিঠিও দেন। তবে আজ ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে সম্ভাব্য বৈঠকের খবর সামনে আসতেই সেই ব্যাখ্যা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের একাংশের মতে, শুধুমাত্র অসুস্থতার কারণেই যদি তিনি পদত্যাগ করে থাকেন, তাহলে এত দ্রুত এমন একটি রাজনৈতিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ সাক্ষাতের সম্ভাবনা তৈরি হওয়া স্বাভাবিকভাবেই আলোচনার বিষয়।

তৃণমূল কংগ্রেসের ইতিহাসে জ্যোতিপ্রিয় মল্লিক একটি গুরুত্বপূর্ণ নাম। ১৯৯৮ সালে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় যখন কংগ্রেস ছেড়ে নতুন দল গঠন করেন, তখন থেকেই তিনি তাঁর অন্যতম বিশ্বস্ত সহযোদ্ধা ছিলেন। ২০০১ সালে উত্তর ২৪ পরগনার গাইঘাটা কেন্দ্র থেকে প্রথমবার বিধায়ক নির্বাচিত হন। পরে ২০১১ সালে রাজ্যে সরকার গঠনের পর মন্ত্রিসভার গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বও সামলান। উত্তর ২৪ পরগনায় তৃণমূলের সাংগঠনিক শক্তি বাড়ানোর ক্ষেত্রে তাঁর অবদান উল্লেখযোগ্য বলে রাজনৈতিক মহলে মনে করা হয়। এমনকি সদ্য সমাপ্ত ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনের প্রচারেও তাঁর সততা ও কাজের প্রশংসা করেছিলেন স্বয়ং মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।

তবে সাম্প্রতিক সময়ে রেশন দুর্নীতি মামলায় তাঁর নাম জড়িয়ে পড়া, কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থার হাতে গ্রেফতার হওয়া এবং দীর্ঘ সময় কারাবন্দি থাকার কারণে তাঁর রাজনৈতিক জীবনে বড় ধাক্কা আসে। ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনে হাবরা কেন্দ্র থেকেও তিনি পরাজিত হন। যদিও এই পুরো সময় জুড়ে তৃণমূল নেতৃত্ব তাঁর পাশে ছিল। বিভিন্ন সভা-সমাবেশে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বারবার দাবি করেছেন যে, জ্যোতিপ্রিয় মল্লিককে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে ফাঁসানো হয়েছে।

এই পরিস্থিতিতে তাঁর পদত্যাগ এবং বিরোধী শিবিরের শীর্ষ নেতার সঙ্গে সম্ভাব্য সাক্ষাৎ তৃণমূলের অন্দরে অস্বস্তি বাড়িয়েছে বলেই মনে করছেন রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকরা। এখন সকলের নজর এই বৈঠকের দিকে। এটি কি শুধুই সৌজন্য সাক্ষাৎ, নাকি বাংলার রাজনীতিতে নতুন সমীকরণের সূচনা— সেই উত্তরই খুঁজছে রাজনৈতিক মহল।

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Adblock Detected

Please Turn Off Your Ad Blocker.