রাজনৈতিক কারণে ঘরছাড়া, নিপীড়নের শিকার বা মিথ্যা মামলায় জড়িয়ে পড়া তৃণমূল কর্মীদের পাশে দাঁড়ানোর বার্তা দিয়ে ফের চালু হচ্ছে ‘এক ডাকে অভিষেক’ কর্মসূচি। মঙ্গলবার সমাজমাধ্যমে এই ঘোষণা করেন ডায়মন্ড হারবারের সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। কর্মীদের দ্রুত আইনি সহায়তা পৌঁছে দিতে একটি হেল্পলাইন নম্বরও প্রকাশ করা হয়েছে।
অভিষেক জানান, যাঁরা রাজনৈতিক প্রতিহিংসার শিকার হয়েছেন বা আইনি জটিলতায় পড়েছেন, তাঁরা এই হেল্পলাইনের মাধ্যমে যোগাযোগ করতে পারবেন। প্রয়োজন অনুযায়ী তাঁদের আইনি সহায়তার ব্যবস্থা করা হবে।
উল্লেখ্য, ২০২১ সালের বিধানসভা নির্বাচনের পর প্রথমে ডায়মন্ড হারবার লোকসভা কেন্দ্রকে কেন্দ্র করে ‘এক ডাকে অভিষেক’ কর্মসূচি শুরু হয়েছিল। পরে তা রাজ্যের বিভিন্ন জেলায় বিস্তৃত হয়। দীর্ঘদিন কার্যত নিষ্ক্রিয় থাকার পর এবার নতুন করে সেই কর্মসূচি ফিরিয়ে আনার সিদ্ধান্ত নিলেন অভিষেক।
সাম্প্রতিক সময়ে রাজ্যের রাজনৈতিক পরিস্থিতি, তৃণমূল কর্মীদের বিরুদ্ধে হামলা ও একাধিক আইনি মামলার প্রেক্ষাপটে এই উদ্যোগকে তাৎপর্যপূর্ণ বলেই মনে করছে রাজনৈতিক মহল। একই সময়ে বিভিন্ন তদন্তকারী সংস্থার জিজ্ঞাসাবাদ এবং তাঁর বাসভবনে তল্লাশির ঘটনাও রাজনৈতিক আলোচনার কেন্দ্রে রয়েছে। এই আবহে কর্মীদের উদ্দেশে পাশে থাকার বার্তাই দিতে চেয়েছেন তিনি বলে মনে করা হচ্ছে।
তবে অভিষেকের এই পদক্ষেপ নিয়ে রাজনৈতিক বিতর্কও শুরু হয়েছে। দলেরই বিদ্রোহী বিধায়ক আখরুজ্জামান দাবি করেছেন, শুধুমাত্র একটি ফোন নম্বর চালু করলেই কর্মীদের আস্থা অর্জন করা যাবে না। তাঁর মতে, সংগঠনকে শক্তিশালী করতে হলে নেতৃত্বকে সরাসরি মাঠে নেমে কর্মীদের সঙ্গে যোগাযোগ বাড়াতে হবে।
অন্যদিকে, বিরোধী শিবিরও এই উদ্যোগকে কটাক্ষ করেছে। তাদের দাবি, এটি মূলত রাজনৈতিক বার্তা দেওয়ার কৌশল, বাস্তবে এর কার্যকারিতা কতটা হবে তা সময়ই বলবে।
এখন নজর, নতুন করে শুরু হওয়া ‘এক ডাকে অভিষেক’ কর্মসূচি তৃণমূলের সাংগঠনিক তৎপরতা কতটা বাড়াতে পারে এবং কর্মীদের মধ্যে কতটা আস্থা ফিরিয়ে আনতে সক্ষম হয়।







