সম্প্রতি শেষ হয়েছে কমনওয়েলথ গেমস। এবারের আসরে পাকিস্তানের পারফরম্যান্স ছিল অত্যন্ত হতাশাজনক। পুরো প্রতিযোগিতায় দেশটির ঝুলিতে এসেছে মাত্র একটি ব্রোঞ্জ পদক, যা জিতেছেন ২২ বছর বয়সী বক্সার ফতিমা জাহরা। তবে পদকের চেয়েও বেশি আলোচনায় উঠে এসেছে দলের এক সদস্যের রহস্যজনক নিখোঁজ হওয়ার ঘটনা।
জানা গিয়েছে, গ্লাসগোয় অনুষ্ঠিত প্রতিযোগিতা শেষে কুদরতউল্লাহ নামে পাকিস্তানের এক বক্সারের কোনও খোঁজ পাওয়া যাচ্ছে না। তিনি কোথায় রয়েছেন, কার সঙ্গে আছেন, কিংবা অপহরণের শিকার হয়েছেন কি না—এসব প্রশ্নের এখনও কোনও স্পষ্ট উত্তর মেলেনি। ঘটনাকে ঘিরে উদ্বেগে রয়েছে পাকিস্তান অলিম্পিক কর্তৃপক্ষ। ইতিমধ্যেই বিষয়টির তদন্ত শুরু করেছে স্কটল্যান্ড পুলিশ।
মঙ্গলবার পুলিশ স্কটল্যান্ডের এক মুখপাত্র জানান, শুধু পাকিস্তান নয়, একাধিক দেশের কয়েকজন ক্রীড়াবিদ প্রতিযোগিতা শেষে নিজেদের দলের সঙ্গে দেশে ফেরেননি। তাঁদের নিখোঁজ হওয়ার কারণ খতিয়ে দেখা হচ্ছে। অন্যদিকে উগান্ডার সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে, দেশটির ছয়জন বক্সারের মধ্যে চারজন এখনও দেশে ফেরেননি। তাঁদের একজন জানিয়েছেন, উন্নত ভবিষ্যতের আশায় তাঁরা স্কটল্যান্ডে রাজনৈতিক আশ্রয় (অ্যাসাইলাম) চাওয়ার পরিকল্পনা করছেন।
পাকিস্তান অলিম্পিক অ্যাসোসিয়েশনের (পিওএ) ঘনিষ্ঠ সূত্রের দাবি, নিজের ইভেন্ট শেষ হওয়ার পর থেকেই কুদরতউল্লাহর আর কোনও খোঁজ পাওয়া যায়নি। সবচেয়ে বিস্ময়কর বিষয় হল, তাঁর পাসপোর্ট নাকি দলের ম্যানেজারের কাছেই ছিল। ফলে পাসপোর্ট ছাড়া তিনি কীভাবে নিখোঁজ হলেন, তা নিয়ে ধোঁয়াশা তৈরি হয়েছে।
তবে এমন ঘটনা পাকিস্তানের ক্ষেত্রে এই প্রথম নয়। ২০২২ সালে বার্মিংহ্যাম কমনওয়েলথ গেমসেও পাকিস্তানের দুই বক্সার একইভাবে নিখোঁজ হয়ে গিয়েছিলেন। তখনও তাঁদের পাসপোর্ট দলের ম্যানেজারের কাছেই ছিল। এছাড়া ২০১৮ সালের গোল্ড কোস্ট কমনওয়েলথ গেমসের পর প্রায় ১৯০ জন ক্রীড়াবিদ অস্ট্রেলিয়া ত্যাগ করতে চাননি। উন্নত জীবনের আশায় তাঁরা সেখানেই থেকে যাওয়ার ইচ্ছা প্রকাশ করেছিলেন। ফলে গ্লাসগোর সাম্প্রতিক ঘটনাও আন্তর্জাতিক ক্রীড়া মহলে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি করেছে।







