মনে পড়ে সেই ২০১২ সালের ডিসেম্বর মাসের কালো রাতের ঘটনা! যে ঘটনা নাড়িয়ে দিয়েছিল গোটা সভ্য সমাজের মেরুদন্ডকে, যে ঘটনা কাঁদিয়েছিল গোটা দেশকে। রেগে; একসাথে গর্জে উঠেছিল সবাই, দেশের প্রতিটি কোন থেকে উঠে এসেছিল প্রতিবাদ ধ্বনি। যে ঘটনা এখনও মানুষের মনে শিহরণ জাগায়। মনে পড়ে সেই নির্ভয়াকে?
আজ থেকে প্রায় ১০-১১ বছর আগে এমনই এক ডিসেম্বর মাসের রাতে বাসের মধ্যে গণধর্ষিত হয়েছিল। সেই ঘটনার নৃশংসতা এমনি ছিল, যোনি পথে লোহার রোড, শরীরের ভিতরের প্রত্যেকটা অঙ্গপ্রত্যঙ্গে আঘাত আর সব শেষে চলন্ত বাস থেকে ছুঁড়ে ফেলা হয়েছিল। বেশ কিছু দিন মৃত্যু যন্ত্রণা সহ্য করে অবশেষে মৃত্যুর কাছে হার মেনে ছিল নির্ভয়া।
আবার সেই ঘটনার পুনার্ভিভাব ঘটলো রাজস্থানের জয়পুরে। উত্তরপ্রদেশে চলন্ত বাসে এক দলিত কন্যাকে গণধর্ষণের অভিযোগে গ্রেফতার হলো বাসচালক। ঘটনাটি ঘটেছে ৯ই ডিসেম্বর উত্তরপ্রদেশ-রাজস্থান বাসরুটের একটি বাসে।
পুলিশ সূত্রে খবর, বছর ২০র ওই তরুণী জয়পুরে নিজের কাকার বাড়ির যাবার জন্য, উত্তরপ্রদেশের কানপুর থেকে রাজস্থানের জয়পুরের উদ্দেশে রওনা হওয়া একটু বেসরকারি বাসে যাত্রা শুরু করেছিল। পথে ওই বাস চালক ও কন্ডাক্টর, যথাক্রমে আরিফ খান এবং ললিত কুমার তরুণীকে তাঁর ঘুম পেলে চালকের কেবিনে বার্থে উঠে শুয়ে পড়তে। কথামতো ওই তরুণী তাই করে। কিন্তু এরপরই চলে সেই নারকীয় ঘটনা।
অভিযোগ এরপরই তরুণীকে গণধর্ষণ করা হয় চলন্ত বাসের মধ্যেই। বাকি যাত্রীদের কানকে ফাঁকি দিতে তীব্র আওয়াজে গান চালানো হয়। এমনকি ওই বাসের চালকের কেবিনটি বাইরে থেকে আটকে দেওয়া হয়। কিন্তু হঠাৎই সন্দেহ শুরু হয় কিছু বাস যাত্রীর।
এরপর কানোটা থানার কাছে একটি পেট্রোল পাম্পে বাসটি দাঁড়ালে, যাত্রীরা চিৎকার চেঁচামেচি শুরু করে। ঘটনাস্থলে ছুটে আসে পুলিশ। গ্রেফতার হয় আরিফ, তবে পরিস্থিতি বেগতিক বুঝে চম্পট দেয় ললিত। ইতিমধ্যেই পৃথক পৃথক দল গঠন করে আরিফের খোঁজ চালাচ্ছে পুলিশ। অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে গণধর্ষণ সহ ভারতীয় দণ্ডবিধির একাধিক অভিযোগে মামলা রুজু করা হয়েছে।







