বিদেশ

“অবৈধভাবে গ্রেফতার করতে চাইছে সরকার”— বিস্ফোরক অভিযোগ নেপালের প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী কেপি শর্মা ওলির

নেপালের ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী কেপি শর্মা ওলি ফের বিতর্কের কেন্দ্রে। রবিবার কাঠমান্ডুতে সাংবাদিক ও সম্পাদকদের সঙ্গে এক আনুষ্ঠানিক বৈঠকে বিস্ফোরক অভিযোগ তুললেন তিনি। ওলির দাবি, বর্তমান সরকার বিনা কারণে তাঁকে গ্রেফতার করার চেষ্টা করছে, একই সঙ্গে ২০২৬ সালের ৫ মার্চ নির্ধারিত সাধারণ নির্বাচন আয়োজন নিয়েও সরকারের উদাসীনতার অভিযোগ আনলেন তিনি।

প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী বলেন, “সরকার যেভাবেই হোক আমাকে গ্রেফতার করতে চায়, যদিও এর পিছনে কোনও যথেষ্ট কারণ নেই।”
তিনি আরও জানান, তাঁর নেতৃত্বাধীন দল সিপিএন–ইউএমএল (CPN–UML) ভেঙে দেওয়া প্রতিনিধি পরিষদ পুনর্বহালের দাবি জানাবে।

গত সেপ্টেম্বরে নেপালে ‘জেন জি বিদ্রোহ’-এর পর ওলি প্রধানমন্ত্রীর পদ ছাড়তে বাধ্য হন। তরুণ প্রজন্মের এই আন্দোলন মূলত দুর্নীতি, স্বজনপ্রীতি, অরাজকতা এবং সরকারের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম নিষিদ্ধের সিদ্ধান্তের বিরোধিতা করে ছড়িয়ে পড়েছিল। পরবর্তীতে আন্দোলন হিংসাত্মক রূপ নিলে ওলি এবং তৎকালীন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী রমেশ লেখকের বিরুদ্ধে অতিরিক্ত বলপ্রয়োগের অভিযোগ ওঠে।

ওলির অভিযোগ, “জেন জি আন্দোলনের সময় যে অগ্নিসংযোগ ও ভাঙচুর হয়েছিল, তা বহিরাগতদের উস্কানিতে ঘটেছে।” তবে কারা সেই বহিরাগত, সে বিষয়ে কিছু বলেননি তিনি। পাশাপাশি তিনি দাবি করেন, সরকারের সিদ্ধান্তে তাঁর নিরাপত্তা ব্যবস্থাও ইচ্ছাকৃতভাবে দুর্বল করা হয়েছে— “আমার নিরাপত্তারক্ষীদের সংখ্যা কমিয়ে দেওয়া হয়েছে, অথচ আমি এখনও প্রাণহানির আশঙ্কায় রয়েছি।”

সাবেক প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, “সরকার এমন এক পরিস্থিতি তৈরি করছে যেখানে মুক্ত ও নিরপেক্ষ নির্বাচন সম্ভব নয়।”
তিনি অভিযোগ করেন, সংবাদমাধ্যমও এখন ভয় পেয়ে আত্ম-নিয়ন্ত্রণ বা ‘সেলফ সেন্সরশিপ’-এর পথে হাঁটছে। “আমার আমলে মিডিয়া অনেক স্বাধীন ছিল,”— দাবি ওলির।

তিনি আরও উল্লেখ করেন, প্রধানমন্ত্রী দফতর, সংসদ ভবন, সুপ্রিম কোর্ট ও দুর্নীতি দমন কমিশনের মতো গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনায় হামলার ঘটনাগুলি মূলধারার মিডিয়া সঠিকভাবে প্রচার করেনি।

উল্লেখযোগ্যভাবে, অন্তর্বর্তী প্রধানমন্ত্রী সুশীলা কার্কির সরকারকে তিনি ‘অসংবিধানিকভাবে গঠিত’ বলে আখ্যা দেন। যদিও জেন জি আন্দোলনের সময় নিরাপত্তা বাহিনীর বলপ্রয়োগ নিয়ে কোনও মন্তব্য করেননি তিনি।

প্রসঙ্গত, গত সেপ্টেম্বরে ‘জেন জি’ আন্দোলনের পর প্রাক্তন প্রধান বিচারপতি সুশীলা কার্কি অন্তর্বর্তী প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শপথ নেন। তাঁর সুপারিশে প্রেসিডেন্ট রামচন্দ্র পাওদেল সংসদ ভেঙে দেন, এবং আগামী ৫ মার্চ ২০২৬ তারিখে নতুন নির্বাচনের ঘোষণা করা হয়।

অন্যদিকে, নেপালি কংগ্রেসের শের বাহাদুর দেউবা ও সিপিএন–মাওইস্ট সেন্টারের প্রধান পুষ্পকমল দহল প্রচণ্ড তাঁদের দলের সভাপতির পদ থেকে সরে দাঁড়ালেও, ওলি এখনও তাঁর দল সিপিএন–ইউএমএলের চেয়ারম্যান পদে বহাল রয়েছেন।
তাঁর দাবি, “জনগণ যদি আবার আমাকে ভোট দেয়, আমি ফের ক্ষমতায় ফিরব। দেশ ও দল এখনও আমার প্রয়োজন বোধ করে।”

সেনা নিরাপত্তায় দীর্ঘদিন গোপন স্থানে থাকার পর সম্প্রতি তিনি প্রকাশ্যে এসে রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে ফের সক্রিয় হয়েছেন।

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Adblock Detected

Please Turn Off Your Ad Blocker.