উলুবেড়িয়া শরৎচন্দ্র মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালে সোমবার সন্ধ্যায় ঘটল অভূতপূর্ব ঘটনা। সরকারি হাসপাতালে কর্তব্যরত এক মহিলা চিকিৎসকের উপর চড়াও হন এক অস্থায়ী হোমগার্ড। অভিযোগ, শারীরিক হেনস্তা থেকে শুরু করে মারধর, এমনকি শ্লীলতাহানিরও অভিযোগ উঠেছে অভিযুক্তের বিরুদ্ধে। ঘটনায় গ্রেফতার হয়েছেন শেখ বাবুলাল নামে ওই হোমগার্ড।
সূত্রের খবর, গর্ভবতী ভাইঝিকে ভর্তি করাতে সোমবার বিকেলে হাসপাতালে পৌঁছেছিলেন শেখ বাবুলাল। অভিযোগ, সময় মতো চিকিৎসা না মেলার অভিযোগ তুলে তিনি ও তাঁর কয়েকজন সঙ্গী হাসপাতালের প্রসূতি বিভাগের চিকিৎসকদের সঙ্গে বচসায় জড়িয়ে পড়েন। সেই বচসা মুহূর্তে রূপ নেয় তুমুল উত্তেজনায়।
কর্তব্যরত চিকিৎসক ডা. লিজা কোলের অভিযোগ, “রোগী ভর্তি হওয়ার পর আমি তাঁকে দেখতে গিয়েছিলাম। কিন্তু রোগী যন্ত্রণায় কষ্ট পেয়ে অসাবধানতাবশত আমাকে লাথি মারে। তারপরও আমি চিকিৎসা চালিয়ে যাই। বিকেল সাড়ে পাঁচটার সময়েই ঘটনা ঘটে। আমি পরিবারকে জানিয়েছিলাম, সিনিয়র ডাক্তার ভিজিটে আসবেন, একটু অপেক্ষা করতে। কিন্তু হঠাৎই উত্তেজনা চরমে ওঠে।”
ডা. লিজার আরও অভিযোগ, “ওরা আমার হাত মুচড়ে দেয়, গায়ে হাত তোলে, গালিগালাজ করে। এমনকি হুমকি দেয় — আমি হাসপাতালের বাইরে পা রাখলে মেরে ফেলবে। ওদের মধ্যে একজন দাবি করে, সে শাসকদলের নেতা ও পুলিশে বড় অফিসার।”
ঘটনার সময় হাসপাতালের নিরাপত্তারক্ষীরা ছুটে এসে অভিযুক্তকে আটকে দেন এবং পুলিশকে খবর দেন। পরে শেখ বাবুলালকে গ্রেফতার করা হয়। আক্রান্ত চিকিৎসকের বয়ানের ভিত্তিতে তাঁর বিরুদ্ধে শ্লীলতাহানিসহ একাধিক ধারায় মামলা রুজু করেছে পুলিশ।
স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, অভিযুক্ত বাবুলাল উলুবেড়িয়া থানার ট্র্যাফিক বিভাগের অস্থায়ী হোমগার্ড হলেও তৃণমূল কংগ্রেসের সক্রিয় কর্মী হিসেবেও পরিচিত। এমনকি তিনি নাকি উলুবেড়িয়ার সংখ্যালঘু মোর্চার সভাপতি পদেও রয়েছেন। স্থানীয় সূত্রের দাবি, উলুবেড়িয়া পুরসভার ৬ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর শুক্লা ঘোষের ঘনিষ্ঠও তিনি।
এই ঘটনার পর থেকেই চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে গোটা এলাকায়। শাসকদলের অন্দরেও শুরু হয়েছে অস্বস্তি। যদিও কাউন্সিলর শুক্লা ঘোষ টিভি৯ বাংলাকে জানিয়েছেন, “বাবুলাল কোনও নেতা নয়। এখন সবাই তৃণমূল কর্মী বলে দাবি করে। দল এই ঘটনার সঙ্গে কোনওভাবেই যুক্ত নয়।”
এদিকে, চিকিৎসক মহলে ক্ষোভ ছড়িয়েছে এই হামলা নিয়ে। চিকিৎসক সংগঠনগুলির দাবি, সরকারি হাসপাতালে নিরাপত্তা নিশ্চিত না হলে এ ধরনের ঘটনার পুনরাবৃত্তি হবেই। ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও অভিযুক্তের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি তুলেছেন তাঁরা।
ঘটনাস্থল: শরৎচন্দ্র মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতাল, উলুবেড়িয়া
অভিযুক্ত: শেখ বাবুলাল (অস্থায়ী হোমগার্ড, তৃণমূল কর্মী)
আক্রান্ত: ডা. লিজা কোল (মহিলা চিকিৎসক)
অভিযোগ: মারধর, হুমকি, শ্লীলতাহানি
বর্তমান অবস্থা: অভিযুক্ত গ্রেফতার, তদন্ত শুরু
চাঞ্চল্যকর এই ঘটনার পর প্রশ্ন উঠছে — সরকারি হাসপাতালের চিকিৎসকরাও কি আর নিরাপদ নন?







