বিদেশ

ট্রাম্প থেকে হামাসকে কড়াকড়ি হুঁশিয়ারি — ইজরায়েল–হামাস যুদ্ধবিরতি ঝুঁকির মধ্যে

ইজরায়েল ও হামাসের মধ্যকার সংবিধিবদ্ধ যুদ্ধবিরতি (ceasefire) টিকে থাকবে কি না—এই নিয়ে আগুনেই ঘি ঢালার রূপ ধরা দিলো মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের কণ্ঠে। এয়ারফোর্স ওয়ান থেকে সাংবাদিকদের উদ্দেশে ট্রাম্প স্পষ্টভাবে বললেন, হামাস যদি যুদ্ধবিরতি ভঙ্গ করে বা পরিস্থিতি অস্থিতিশীল করে, “তাহলে তাদের নির্মূল করা হবে” — আর প্রয়োজন হলে যুক্তরাষ্ট্র সরাসরি কদম নিতে পিছপা হবে না।

ট্রাম্প একই সঙ্গে জানান যে, তিনি অন্য কোনো দেশের ভূ-খাতে (ground troops) বড়সড় মার্কিন সেনা মোতায়েনের কথা বলতে চাওয়া নন—কিন্তু প্রয়োজন হলে “আমরা ভিতরে গিয়ে তা দ্রুত ও শক্তভাবে ঠিক করে দেব” বলেও সতর্ক করে দিয়েছেন। এ ঘোষণার কন্টেক্সটে তাঁর প্রশাসনের উচ্চপর্যায়ের কূটনীতিকরা মধ্যপ্রাচ্যে দ্রুত পৌঁছেছেন যাতে যুদ্ধবিরতি টিকে থাকতে পারে।

ট্রাম্প-নির্ধারিত ২০ ধাপের শান্তি পরিকল্পনার পরবর্তী ধাপ নিয়ে আলোচনারত অবস্থায় তার প্রশাসনের বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফ এবং প্রেসিডেন্টের উপদেষ্টা জামাতা জ্যারেড কুশনার গতকাল জেরুজালেমে ইজরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু-কে সঙ্গে দেখা করেছেন—তাদের মূল লক্ষ্য যে ঘাটতি ও সংঘাতের তাত্ত্বিক কারণ ঝাড়ফুঁক করে যুদ্ধবিরতি ধরে রাখা।

তবে যুদ্ধবিরতি দৃশ্যত নরম খসে পড়ার প্রাথমিক লক্ষণ দেখা দিয়েছে। ইজরায়েল দাবি করেছে—গত সপ্তাহান্তে গাজায় সংঘটিত এক ঘটনার পরে দুজন ইসরায়েলি জওয়ান নিহত হওয়ায় তারা আকাশে টার্গেট করে প্রতিশোধী কাজ চালায়; এতে গাজায় আবারও নিহত-আহত জনসাধারণের রিপোর্ট এসেছে। একই সঙ্গে ইজরায়েল সাময়িকভাবে মানবিক ত্রাণ সরবরাহ স্থগিত করার ঘোষণা দেয়; পরবর্তীতে যুক্তরাষ্ট্রের কূটনৈতিক চাপ ও আলোচনার পর সচলতা আনার প্রতিক্রিয়া এসেছে বলে সংবাদসংস্থাগুলো বলছে।

এই মুহূর্তে আমেরিকার উচ্চ পর্যায়ের আরও একটি প্রতিনিধি দলই অচিরেই ইজরায়েলে পৌঁছাচ্ছে—ভাইস প্রেসিডেন্ট জে. ডি. ভ্যান্স (J.D. Vance) ইজরায়েল সফরে যাচ্ছেন বলে অপারেটিভ সূত্রে জানা গেছে; তাঁর সফরও মূলত যুদ্ধবিরতি রক্ষায় কূটনৈতিক কূটকৌশল চালানোই হবে।

ট্রাম্প বারবার বলছেন যে তিনি মধ্যপ্রাচ্যে “ইতিহাস পরিবর্তনকারী” একটি সূচনা স্বরূপ এই যুদ্ধবিরতিকে দেখেন—তাই সেটা ভাঙলে তার প্রশাসন কড়া প্রতিক্রিয়া দেখাবে। একই সঙ্গে কূটনীতিকরা গাজায় মানবিক দিকটি দ্রুত স্বাভাবিক রাখার জন্য চাপ দিচ্ছেন—কারণ ত্রাণ-সেবা বন্ধ থাকায় নাগরিকদের দুঃচিন্তা ও ক্ষত সহজে বাড়ছে।

বিশ্লেষকরা বলছেন, এই মুহূর্তে পরিস্থিতি নাজুক: যে কোনো নতুন হামলাকে ইজরায়েল বা যুক্তরাষ্ট্র দ্রুত ‘চুক্তি ভঙ্গ’ হিসেবে ব্যাখ্যা করে বড় আঘাত হিসেবে উত্তোলে পরিণত করতে পারে—অর্থাৎ শান্তি-মুহূর্ত দ্রুত সংকটেযে পরিণত হওয়ার সম্ভাবনা আছে। একই সাথে কূটনৈতিক তৎপরতা তীক্ষ্ণ থাকায় এখনও একটানা বড় ইস্কান্ট (escalation) রোধ করা সম্ভব হতে পারে যদি দুই পক্ষ কিছু নির্দিষ্ট শর্ত মেনে চলে।

সংক্ষেপে: ট্রাম্পের কণ্ঠে দেখা দেওয়া হুঁশিয়ারি ও বিশেষ দূতদের মধ্যপ্রাচ্যে উপস্থিতি—দুইই ইঙ্গিত দেয় যে যুক্তরাষ্ট্র যুদ্ধবিরতি রক্ষা করতে ব্যাপকভাবে জড়িত থাকতে চায়, তবে যে কোনও নতুন নির্দেশভঙ্গ হলে তার ফলাফল ভয়াবহ হতে পারে। স্থানীয় বাস্তবতায় ত্রাণ এবং গ্রাউন্ড-লেভেলের সিচুয়েশনই নির্ধারণ করবে—শান্তি টিকে থাকবে নাকি আবার সংঘাতের তীব্রতা বাড়বে।

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Adblock Detected

Please Turn Off Your Ad Blocker.