রাজধানীর হৃদয়ে আতঙ্ক! সোমবার সন্ধেয় ঐতিহাসিক লালকেল্লার সামনে ভয়াবহ বিস্ফোরণে কেঁপে উঠল দিল্লি। বিস্ফোরণে মৃত্যু হয়েছে অন্তত আটজনের, আহত বহু। দুটি গাড়িতে পরপর বিস্ফোরণে মুহূর্তে আগুন ছড়িয়ে পড়ে, আশপাশের এলাকা ঘিরে ফেলে পুলিশ। ভয়াবহ দৃশ্যে স্তব্ধ হয়ে যায় লালকেল্লার পার্শ্ববর্তী জনবহুল অঞ্চল।
বিস্ফোরণের জেরে সঙ্গে সঙ্গে ছুটে যায় দমকল ও পুলিশ বাহিনী। উদ্ধারকাজে নামে এনডিআরএফ। গুরুতর আহতদের দ্রুত হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। ঘটনাস্থল ঘিরে ফেলা হয় বিশাল এলাকা, বন্ধ করে দেওয়া হয় আশপাশের রাস্তা।
ঘটনার পরেই কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ পরিস্থিতি নিয়ে জরুরি বৈঠক করেন। তিনি জানান, “সব সম্ভাবনাই খতিয়ে দেখা হচ্ছে। তদন্তের কাজ শুরু হয়েছে। সাধারণ মানুষকে আতঙ্কিত না হয়ে প্রশাসনকে সহযোগিতা করার অনুরোধ জানাচ্ছি।”
সূত্রের খবর, ইতিমধ্যেই এনআইএ, এনএসজি, ফরেন্সিক সায়েন্স ল্যাবরেটরি ও দিল্লি পুলিশকে যৌথভাবে তদন্তের নির্দেশ দিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। দিল্লি পুলিশের কমিশনার সতীশ গোলচা ও আইবি প্রধান তপন দেকার সঙ্গে ফোনে কথা বলেন তিনি। এনআইএ-র একটি বিশেষ টিম রাতেই ঘটনাস্থলে পৌঁছে গিয়েছে। বিস্ফোরণের প্রকৃতি, ব্যবহৃত বিস্ফোরক, এবং সম্ভাব্য নাশকতার ছক খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
বিস্ফোরণে আহতদের দেখতে হাসপাতালে যান অমিত শাহ। চিকিৎসকদের সঙ্গে কথা বলেন এবং আহতদের চিকিৎসার দায়িত্ব নিতে বলেন প্রশাসনকে। হাসপাতাল থেকে বেরিয়ে তিনি জানান, “সিসিটিভি ফুটেজ খতিয়ে দেখা হচ্ছে। খুব শিগগিরই প্রকৃত ঘটনা সামনে আসবে।”
বিস্ফোরণের খবর পেয়েই প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে কথা বলেন। পরে এক্স (X) হ্যান্ডলে লিখেছেন, “দিল্লির বিস্ফোরণে প্রাণ হারানোদের পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা জানাই। আহতরা দ্রুত আরোগ্য লাভ করুন—এই প্রার্থনা করি।”
রাত বাড়তেই লালকেল্লা ও আশপাশের এলাকায় কড়া নিরাপত্তা বলয় গড়ে তোলা হয়েছে। ফরেন্সিক টিম ঘটনাস্থল থেকে একাধিক প্রমাণ সংগ্রহ করেছে। সূত্রের খবর, আগামী ২৪ ঘণ্টার মধ্যে প্রাথমিক তদন্ত রিপোর্ট পেশ করবে এনআইএ।
এখনও পর্যন্ত কোনও জঙ্গি সংগঠন বিস্ফোরণের দায় স্বীকার করেনি। তবে গোয়েন্দারা আশঙ্কা করছেন, এটি পরিকল্পিত নাশকতার অংশ হতে পারে। রাজধানীর নিরাপত্তা জোরদার করার পাশাপাশি মেট্রো স্টেশন ও সংবেদনশীল স্থানে বাড়ানো হয়েছে নজরদারি।







