বলিউডে নেমে এল গভীর শোকের ছায়া। প্রয়াত হলেন ভারতীয় চলচ্চিত্রের কিংবদন্তি অভিনেতা ধর্মেন্দ্র। সোমবার সকালে মুম্বইয়ের ব্রিচ ক্যান্ডি হাসপাতালে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন তিনি। মৃত্যুকালে তাঁর বয়স হয়েছিল ৮৯ বছর। বেশ কিছুদিন ধরেই অসুস্থ ছিলেন এই বর্ষীয়ান অভিনেতা। দীর্ঘদিন ধরে চিকিৎসাধীন থাকার পরও শেষরক্ষা হল না, কোটি কোটি ভক্তকে কাঁদিয়ে না ফেরার দেশে পাড়ি দিলেন বলিউডের ‘হি-ম্যান’।
অক্টোবরের শেষের দিক থেকে ব্রিচ ক্যান্ডি হাসপাতালে ভর্তি ছিলেন ধর্মেন্দ্র। একাধিকবার তাঁর শারীরিক অবস্থার অবনতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছিলেন চিকিৎসকরা। অবশেষে সোমবার সকালে মিলল মর্মান্তিক সংবাদ।
ধর্মেন্দ্রর মৃত্যুতে শোকস্তব্ধ গোটা চলচ্চিত্র জগৎ। সিনে দুনিয়া থেকে শুরু করে রাজনৈতিক মহল, সর্বত্রই নেমে এসেছে শোকের ছায়া। সামাজিক মাধ্যমে শোকবার্তা জানিয়েছেন অমিতাভ বচ্চন, হেমা মালিনী, সানি দেওল, ববি দেওল-সহ অসংখ্য তারকা।
ছয় দশকেরও বেশি সময় ধরে পর্দা কাঁপিয়েছেন ধর্মেন্দ্র। ১৯৫০-এর দশকের শেষের দিকে ফিল্মফেয়ার ট্যালেন্ট হান্টে বিজয়ী হয়ে ১৯৬০ সালে ‘দিল ভি তেরা হাম ভি তেরে’ সিনেমায় অভিনয়ের মাধ্যমে বলিউডে আত্মপ্রকাশ করেন তিনি। এরপর একের পর এক হিট ছবি— শোলে, চুপকে চুপকে, ফুল অউর পাথর, সত্যকম, ধরম বির, আনপন—তাঁকে নিয়ে গিয়েছিল সাফল্যের শিখরে।
শুধু রোমান্টিক হিরো নন, বলিউডের ইতিহাসে অন্যতম সফল অ্যাকশন হিরো হিসেবেও পরিচিত ছিলেন তিনি। তাই দর্শকরা ভালোবেসে তাঁকে ডাকতেন “হি-ম্যান অফ বলিউড” নামে।
অভিনয় ছাড়াও রাজনীতিতে সক্রিয় ছিলেন ধর্মেন্দ্র। ২০০৪ সালে বিজেপি প্রার্থী হিসেবে রাজস্থানের বিকানের থেকে লোকসভায় নির্বাচিত হন তিনি। ২০১২ সালে ভারত সরকার তাঁকে দেশের তৃতীয় সর্বোচ্চ নাগরিক সম্মান পদ্মভূষণ প্রদান করে।
ধর্মেন্দ্রর প্রয়াণে বলিউড হারাল এক যুগের প্রতীক। রূপালি পর্দার বীরু আজ নিঃশব্দে পাড়ি দিলেন চির নিদ্রায়, কিন্তু তাঁর অগণিত সংলাপ, হাসি আর দৃঢ় দৃষ্টি আজও অমর হয়ে থাকবে কোটি ভক্তের হৃদয়ে।







