দিল্লীর লালকেল্লার কাছে সোমবার সন্ধ্যার ভয়াবহ বিস্ফোরণের পর ভারতের প্রতি গভীর সহমর্মিতা প্রকাশ করলেন ইজরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু। বুধবার এক দৃঢ় বিবৃতিতে তিনি প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী ও ভারতের জনগণের প্রতি সমবেদনা জানিয়ে বলেন, “সন্ত্রাস শহরগুলিকে লক্ষ্যবস্তু করতে পারে, কিন্তু এটি কখনও শক্তিশালী জাতির ইচ্ছাকে দুর্বল করতে পারে না।”
নেতানিয়াহু আরও বলেন, “আমাদের বন্ধু নরেন্দ্র মোদী এবং ভারতের সাহসী নাগরিকদের প্রতি — ইজরায়েলের জনগণ নিহতদের পরিবারের প্রতি আন্তরিক সমবেদনা জানাচ্ছে। এই কঠিন সময়ে আপনাদের বেদনা এবং অধ্যবসায়ের সঙ্গে ইজরায়েল অটলভাবে ঐক্যবদ্ধ।”
তিনি ভারত ও ইজরায়েলকে “অভিন্ন আদর্শ ও অটল চেতনায় আবদ্ধ প্রাচীন সংস্কৃতি” বলে বর্ণনা করেন। নেতানিয়াহুর বক্তব্যে প্রতিধ্বনিত হয় দুই দেশের গভীর কূটনৈতিক ও সাংস্কৃতিক সম্পর্কের সুর:
“ভারত ও ইজরায়েল চিরন্তন নীতির উপর দাঁড়িয়ে থাকা প্রাচীন সভ্যতা। সন্ত্রাস আমাদের শহরগুলিতে আঘাত করতে পারে, কিন্তু এটি কখনও আমাদের আত্মাকে নাড়াতে পারবে না। আমাদের জাতির উজ্জ্বল আলো সর্বদা শত্রুদের অন্ধকারকে পরাজিত করবে।”
এই বার্তাটি আসে এমন এক সময়, যখন রাজধানীর বিস্ফোরণের ঘটনায় আন্তর্জাতিক মহল থেকে ভারতের প্রতি সংহতির বার্তা আসছে। সোমবারের বিস্ফোরণে কমপক্ষে আটজনের মৃত্যু হয়েছে, আহত হয়েছেন আরও অনেকে। কর্তৃপক্ষ প্রাথমিকভাবে ঘটনাটিকে সম্ভাব্য সন্ত্রাসী হামলা হিসেবে তদন্ত করছে।
এর আগে মঙ্গলবার ইজরায়েলি পররাষ্ট্রমন্ত্রী গিডিয়ন সারও এক্স-এ (X) পোস্ট করে নিহতদের পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা জানান। তিনি লেখেন, “আমি ইজরায়েল এবং আমার নিজের পক্ষ থেকে ভারতের জনগণের প্রতি, বিশেষ করে দিল্লীর কেন্দ্রস্থলে বিস্ফোরণে নিহত নিরীহদের পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা জানাচ্ছি।” আহতদের দ্রুত আরোগ্য কামনা করে সার বলেন, “সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে ইজরায়েল সর্বদা ভারতের পাশে থাকবে।”
এই ঘটনার পর আন্তর্জাতিক রাজনীতির পর্যবেক্ষকদের মতে, ভারত-ইজরায়েল সম্পর্কের এই সংহতির বার্তা শুধু কূটনৈতিক নয়, বরং সন্ত্রাসবিরোধী বিশ্বজোটের দৃঢ়তার প্রতীকও।







