ফ্রান্সের এভিয়ান-লে-বেঁ-তে অনুষ্ঠিত জি৭ সম্মেলনে ঘটে গেল এক অপ্রত্যাশিত ঘটনা। কঠোর নিরাপত্তা এবং গোপনীয়তার আবরণ ভেদ করে বিশ্বনেতাদের একাধিক ব্যক্তিগত ও সংবেদনশীল আলোচনা ধরা পড়ে চালু থাকা একটি মাইক্রোফোনে। এই তথাকথিত ‘হট মাইক’ বিতর্ক ঘিরে আন্তর্জাতিক মহলে শুরু হয়েছে জোর চর্চা।
ফাঁস হওয়া কথোপকথনের মধ্যে সবচেয়ে বেশি নজর কেড়েছে ফরাসি প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁ ও ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কির আলোচনা। সেখানে ম্যাক্রোঁকে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে তাঁর বৈঠককে “খুবই কঠিন” বলে উল্লেখ করতে শোনা যায়। বিশ্লেষকদের মতে, শুল্কনীতি, ইরান ইস্যু এবং বাণিজ্যিক মতপার্থক্য নিয়ে যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপের সম্পর্কের টানাপোড়েনেরই ইঙ্গিত মিলেছে এই মন্তব্যে।
অন্যদিকে, ইউরোপীয় কাউন্সিলের প্রেসিডেন্ট আন্তোনিও কোস্তার সঙ্গে কথোপকথনের সময় ট্রাম্পের মুখে হঠাৎ ‘গ্রিনল্যান্ড’ প্রসঙ্গ উঠে আসায় নতুন করে জল্পনা শুরু হয়েছে। অতীতে গ্রিনল্যান্ড অধিগ্রহণ নিয়ে তাঁর বিতর্কিত আগ্রহের কথা মনে করিয়ে দিয়েছে এই মন্তব্য। যদিও পরবর্তীতে আলোচনার বিষয় ঘুরে যায় খেলাধুলা এবং ব্যক্তিগত প্রসঙ্গে।
শুধু রাজনৈতিক আলোচনা নয়, নেতাদের ব্যক্তিগত অভ্যাস ও পছন্দ-অপছন্দও উঠে এসেছে এই রেকর্ডিংয়ে। ইতালির প্রধানমন্ত্রী জর্জিয়া মেলোনি জানান, তিনি সম্প্রতি ধূমপান ছেড়েছেন। তাঁর এই সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানান অন্যান্য দেশের প্রতিনিধিরা। একইসঙ্গে ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমারের ফুটবলপ্রেমও আলোচনায় উঠে আসে।
সম্মেলনের শেষ পর্যায়ে উপহার বিনিময়েও দেখা যায় কূটনৈতিক সৌজন্যের বিশেষ ছাপ। ম্যাক্রোঁ অংশগ্রহণকারী নেতাদের সাইকেল উপহার দিলেও ট্রাম্পের জন্য জার্মান চ্যান্সেলর ফ্রেডরিখ মার্জ বেছে নেন জার্মান জাতীয় দলের একটি বিশেষ ফুটবল জার্সি, যেখানে ট্রাম্পের নামের সঙ্গে ছিল ‘৪৭’ নম্বর। পরে সামাজিক মাধ্যমে সেই মুহূর্তের ছবি শেয়ার করে মার্জ লেখেন, “শেষ পর্যন্ত আমরা একই দলের সদস্য।”
এই ‘হট মাইক’ বিতর্ক আবারও মনে করিয়ে দিল, আন্তর্জাতিক কূটনীতির মঞ্চে আনুষ্ঠানিক বক্তব্যের বাইরে নেতাদের ব্যক্তিগত মন্তব্য এবং বাস্তব সম্পর্ক কতটা ভিন্ন মাত্রা বহন করে। বিশেষজ্ঞদের মতে, ঘটনাটি তাৎক্ষণিকভাবে বড় কোনও কূটনৈতিক সংকট তৈরি না করলেও ভবিষ্যতের আলোচনায় কিছুটা অস্বস্তির কারণ হয়ে উঠতে পারে।







