ইয়েমেনের ইরান-সমর্থিত হুথি গোষ্ঠীর লাগাতার হামলায় নতুন করে উত্তপ্ত সৌদি আরব। বিশেষ করে দেশের পশ্চিম উপকূলবর্তী এলাকায় তৈরি হয়েছে উদ্বেগের পরিস্থিতি। মঙ্গলবার মক্কা, জেদ্দা ও তাইফ-সহ একাধিক এলাকায় সম্ভাব্য বিমান হামলার সতর্কবার্তা জারি করে সৌদি সিভিল ডিফেন্স। মক্কার ক্ষেত্রে সাম্প্রতিক সংঘাতের প্রেক্ষাপটে এমন সতর্কতা এই প্রথম বলে জানা গিয়েছে। কিছুক্ষণের মধ্যেই অবশ্য সৌদি কর্তৃপক্ষ জানায়, তাৎক্ষণিক বিপদের পরিস্থিতি কেটে গিয়েছে। বাসিন্দাদের সরকারি নিরাপত্তা নির্দেশিকা মেনে চলার পরামর্শ দেওয়া হয়।
এরই মধ্যে ইজরায়েলি সংবাদমাধ্যম ‘হায়োম’-এর প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, মদিনার প্রিন্স মোহাম্মদ বিন আব্দুলআজিজ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের সঙ্গে যুক্ত বিমান চলাচল সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছিল। এই পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে সৌদি ভূখণ্ডে হুথিদের ধারাবাহিক ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলার মধ্যেই।
গত কয়েক দিনে সৌদি আরবের একাধিক শহর ও গুরুত্বপূর্ণ পরিকাঠামোকে লক্ষ্য করে হামলা চালিয়েছে হুথিরা। এর আগে সৌদির দক্ষিণাঞ্চলে চালানো এক দফা হামলায় তেল সংক্রান্ত পরিকাঠামোয় আগুন ধরে যায় এবং সরকারি হিসাব অনুযায়ী ৭৩ জন আহত হন। হামলার জবাবে সৌদি নেতৃত্বাধীন বাহিনী ইয়েমেনের হুথি নিয়ন্ত্রিত এলাকায় বিমান হামলা চালিয়েছে।
এদিকে সৌদি নেতৃত্বাধীন জোটের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে, মক্কার দক্ষিণে একটি হুথি ড্রোনকে শনাক্ত করে আকাশেই ধ্বংস করা হয়েছে। জোটের মুখপাত্রের বক্তব্য অনুযায়ী, ড্রোনটি মক্কার নিষিদ্ধ আকাশসীমার দিকে এগিয়ে যাচ্ছিল। তবে হুথিরা মক্কাকে লক্ষ্য করে কোনও হামলা চালানোর অভিযোগ অস্বীকার করেছে। হুথি নেতৃত্বের বক্তব্য, মক্কাকে নিশানা করার দাবি বিভ্রান্তিকর এবং ভিত্তিহীন।
মক্কা নিয়ে এই পাল্টাপাল্টি দাবির মধ্যেই ইয়েমেনের পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠেছে। হুথিদের লোহিত সাগর সংলগ্ন এলাকায় অগ্রগতি এবং কৌশলগত বাব আল-মানদাব প্রণালী ঘিরে উত্তেজনা আন্তর্জাতিক মহলের উদ্বেগ বাড়িয়েছে। এই জলপথ বিশ্ব বাণিজ্যের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হওয়ায় সেখানে অস্থিরতা তৈরি হলে জ্বালানি ও পণ্য পরিবহণেও তার প্রভাব পড়তে পারে।
সৌদি আরব ও হুথিদের মধ্যে সাম্প্রতিক সংঘর্ষ কার্যত কয়েক বছরের তুলনায় সবচেয়ে বড় উত্তেজনার পরিস্থিতি তৈরি করেছে। একদিকে সৌদি ভূখণ্ডে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা, অন্যদিকে ইয়েমেনে পাল্টা বিমান হামলা—দুই পক্ষের এই সংঘাতের জেরে পরিস্থিতি ক্রমশ আরও অনিশ্চিত হয়ে উঠছে। ফলে লোহিত সাগর থেকে সৌদির পশ্চিমাঞ্চল পর্যন্ত নিরাপত্তা পরিস্থিতির দিকে নজর রাখছে আন্তর্জাতিক মহল।







