রাজ্য

রাজ্যে ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন (SIR) শুরু, ৬ কোটি ৫৬ লক্ষ ফর্ম বিতরণ — কীভাবে যাচাই করবেন আপনার নাম ভোটার তালিকায় আছে কিনা?

২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনের আগে ভোটার তালিকা হালনাগাদে নেমেছে ভারতের নির্বাচন কমিশন (ECI)। রাজ্যের মুখ্য নির্বাচনী দফতরের (CEO Bengal) তত্ত্বাবধানে চলছে বিশেষ নিবিড় সংশোধন প্রক্রিয়া (SIR)। নির্বাচন কমিশন সূত্রে জানা গেছে, ১১ নভেম্বর রাত ৮টা পর্যন্ত রাজ্যে প্রায় ৬ কোটি ৫৬ লক্ষ এনুমারেশন ফর্ম বিলি সম্পূর্ণ হয়েছে, যা মোট লক্ষ্যমাত্রার প্রায় ৮৫.৭১ শতাংশ।

তবে সাধারণ মানুষের মধ্যে এখন একটাই প্রশ্ন ঘুরছে —
“আমার নাম কি ভোটার তালিকায় সুরক্ষিত?”

নির্বাচন কমিশনের নিয়ম অনুযায়ী, ২০২৬ সালের ৭ ফেব্রুয়ারি প্রকাশিত চূড়ান্ত ভোটার তালিকায় যদি কারও নাম না থাকে, তাহলে তিনি আগামী বড় সংশোধনী (২০২৬ সাল পর্যন্ত) ভোটাধিকার থেকে বঞ্চিত থাকবেন।

কেন এই SIR প্রক্রিয়া?
নির্বাচন কমিশন জানিয়েছে, এটি কোনও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নয়, বরং সংবিধানের ৩২৪ অনুচ্ছেদের অধীনে পরিচালিত একটি সাংবিধানিক প্রক্রিয়া, যার মূল উদ্দেশ্য ভোটার তালিকার নির্ভুলতা ও স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা।

রাজ্যের অতিরিক্ত মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিক অরিন্দম নিয়োগী বলেন —

“নির্বাচন কমিশন আইন প্রণয়নকারী সংস্থা নয়। সংসদ প্রদত্ত আইন অনুযায়ী প্রশাসনিক নির্দেশ জারি করে যাতে ভোটার তালিকা ত্রুটিমুক্ত রাখা যায়।”

কারা ভোটার তালিকায় অন্তর্ভুক্ত হতে পারবেন?
যাঁদের বয়স ২০২৬ সালের ১ জানুয়ারি পর্যন্ত ১৮ বছর পূর্ণ হবে

সংশ্লিষ্ট নির্বাচনী এলাকার স্থায়ী বাসিন্দা

এবং ভারতীয় নাগরিকত্ব থাকা আবশ্যক

কার নাম বাদ পড়তে পারে?
১. অন্য ঠিকানায় স্থানান্তরিত হয়েছেন
২. বৈধ পরিচয়পত্র বা নথি নেই
৩. অথবা পূর্বে ভুলবশত ভোটার তালিকায় অন্তর্ভুক্ত হয়েছিলেন

কীভাবে যাচাই করবেন আপনার নাম ভোটার তালিকায় আছে কিনা?
নিচের সরকারি ওয়েবসাইটে গিয়ে সহজেই যাচাই করা যাবে —
🌐 https://voters.eci.gov.in/
🌐 https://electoralsearch.eci.gov.in/

সন্ধান করা যাবে —

EPIC নম্বর (ভোটার কার্ড নম্বর) দিয়ে

ব্যক্তিগত তথ্য (নাম, পিতা/স্বামীর নাম, জন্মতারিখ ইত্যাদি) দিয়ে

অথবা মোবাইল নম্বর (যদি ভোটার আইডির সঙ্গে যুক্ত থাকে) দিয়ে

এছাড়াও সহায়তার জন্য টোল-ফ্রি ১৯৫০ নম্বরে ফোন করা যাবে।

যদি নাম বাদ পড়ে যায়, কী করবেন?
নাম বাদ পড়লেও আতঙ্কিত হওয়ার কিছু নেই। কমিশনের নিয়ম অনুযায়ী, তিন স্তরের আপিল প্রক্রিয়া রয়েছে —

১️⃣ সংশ্লিষ্ট ইলেক্টোরাল রেজিস্ট্রেশন অফিসার (ERO)-এর কাছে আপিল
২️⃣ জেলা নির্বাচনী আধিকারিক (DEO)-এর কাছে আবেদন
৩️⃣ এবং শেষে রাজ্যের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিক (CEO Bengal)-এর কাছে আপিল করা যাবে

দাবি ও আপত্তির সময়সীমায় নতুন ভোটাররা নিবন্ধন করতে পারবেন, বিদ্যমান ভোটাররাও তথ্য সংশোধনের আবেদন করতে পারবেন।

কবে প্রকাশিত হবে চূড়ান্ত ভোটার তালিকা?
৭ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ তারিখে প্রকাশিত হবে রাজ্যের চূড়ান্ত ভোটার তালিকা।

সচেতনতা অভিযান জোরদার
এই বিশেষ সংশোধন প্রক্রিয়াকে ঘিরে রাজ্যজুড়ে চলছে ব্যাপক সচেতনতা অভিযান, যাতে কোনও যোগ্য ভোটার যেন বাদ না পড়ে যায়।

নির্বাচন কমিশনের বার্তা একটাই — “প্রত্যেক যোগ্য নাগরিকের ভোটাধিকার সুরক্ষিত থাকুক, ভুলভ্রান্তিহীন তালিকাই হোক গণতন্ত্রের ভিত্তি।”

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Adblock Detected

Please Turn Off Your Ad Blocker.