লালকেল্লা মেট্রো স্টেশনের কাছে গাড়িবোমা বিস্ফোরণে মৃত্যু হয়েছিল ১৩ জনের, গুরুতর জখম হন আরও প্রায় ২৫ জন। সেই নৃশংস হামলার তদন্তে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতির দাবি করল জাতীয় তদন্ত সংস্থা (NIA)। রবিবার সন্ধ্যায় রাজধানী দিল্লি থেকে গ্রেফতার করা হয়েছে কাশ্মীরের পাম্পোরের সাম্বুরা এলাকার বাসিন্দা আমির রশিদ আলিকে। আত্মঘাতী বোমা হামলাকারী ডক্টর উমর উন নবীর ঘনিষ্ঠ সহযোগী হিসেবেই তাকে চিহ্নিত করেছে তদন্তকারী সংস্থা।
NIA–র তদন্তে উঠে এসেছে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য—লালকেল্লার কাছে বিস্ফোরণে ব্যবহৃত হুন্ডাই আই২০ গাড়িটি আমির রশিদের নামেই নথিভুক্ত ছিল। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে জানা গিয়েছে, উমরকে ওই গাড়ি সংগ্রহে সাহায্য করেছিল আমিরই। পরে সেই গাড়িকেই ইম্প্রোভাইজড এক্সপ্লোসিভ ডিভাইস (IED) দিয়ে আত্মঘাতী হামলার উপযোগী করে তোলে উমর।
ফরেনসিক ডিএনএ বিশ্লেষণে নিশ্চিত হয়েছে, বিস্ফোরণের সময় গাড়িটি চালাচ্ছিলেন ফরিদাবাদের আল-ফালাহ বিশ্ববিদ্যালয়ের সহকারী অধ্যাপক ডক্টর উমর উন নবী। দিল্লি পুলিশের কাছ থেকে তদন্তভার নেওয়ার পর NIA দেশজুড়ে তল্লাশি অভিযান চালায় এবং এখন পর্যন্ত ৭৩ জন সাক্ষীর বয়ান সংগ্রহ করেছে, যার মধ্যে বেশ কয়েকজন আহতও রয়েছেন।
তদন্ত সংস্থা আরও একটি গাড়ি বাজেয়াপ্ত করেছে, যা উমর উন নবীর মালিকানাধীন বলে জানা গিয়েছে। পাশাপাশি একাধিক রাজ্যের গোয়েন্দা ও পুলিশ সংস্থার সঙ্গে সমন্বয় করে বৃহত্তর সন্ত্রাসী নেটওয়ার্কের খোঁজে তল্লাশি চালানো হচ্ছে।
তদন্তকারীদের প্রাথমিক অনুমান, এই হামলার সঙ্গে আন্তর্জাতিক জঙ্গি সংগঠন জইশ-ই-মহম্মদ (JeM)–এর ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক রয়েছে। দিল্লিতে হামলার ঘটনার পর উদ্ঘাটিত হয়েছে নতুন ধরনের “হোয়াইট-কলার টেরর মডিউল”—যে মডিউলের সদস্যরা উচ্চশিক্ষিত, আর্থিকভাবে সচ্ছল এবং প্রযুক্তিগত দক্ষতা ব্যবহার করে সন্ত্রাসবাদে মদত দিচ্ছে। NIA–র মতে, এই নেটওয়ার্ক দেশের নিরাপত্তার জন্য অত্যন্ত উদ্বেগজনক।
এই ঘটনায় আরও কেউ জড়িত কি না, সে বিষয়ে তদন্ত চলছে। নিকট ভবিষ্যতে আরও গ্রেফতারের সম্ভাবনাও উড়িয়ে দিচ্ছে না সংস্থা।







