দেশ

আত্মঘাতী বোমারু তৈরির ছক! লালকেল্লা বিস্ফোরণের নেপথ্যে ‘ডক্টর মডিউল’

দিল্লির লালকেল্লার অদূরে গাড়ি বিস্ফোরণে ১৩ জনের মৃত্যুর ঘটনার তদন্তে উঠে এল চাঞ্চল্যকর তথ্য। জাতীয় তদন্তকারী সংস্থা (এনআইএ)-র সূত্র বলছে, গত বছর থেকেই একজন ‘আত্মঘাতী বোমারু’ তৈরির পরিকল্পনা করছিল কাশ্মীর ও হরিয়ানাভিত্তিক একটি ‘সফেদ কলার’ সন্ত্রাসী মডিউল। চিকিৎসকদের নেতৃত্বে পরিচালিত এই নেটওয়ার্কের মূল চক্রীরাই নাকি দিল্লি-সহ দেশের একাধিক শহরে ধারাবাহিক বিস্ফোরণের ছক কষেছিল।

তদন্তকারীদের দাবি, এই মডিউলের মাথায় ছিলেন হরিয়ানার আল-ফালাহ্ বিশ্ববিদ্যালয়ের চিকিৎসক উমর উন-নবি, যিনি লালকেল্লার কাছে বিস্ফোরিত ‘ঘাতক গাড়িটি’ চালাচ্ছিলেন। ঘটনার পর গ্রেফতার হয়েছেন একাধিক ডাক্তার ও মেডিকেল ছাত্র। এনআইএ সূত্রে জানা গিয়েছে, ধৃতদের এক জনের জেরায় উঠে এসেছে—উমর ছিলেন “অত্যন্ত কট্টরবাদী” এবং বহুদিন ধরে একজন আত্মঘাতী হামলাকারী তৈরির চেষ্টা চালাচ্ছিলেন।

তদন্তকারীদের বক্তব্য, গত বছরের অক্টোবরেই কুলগাঁওয়ের একটি মসজিদে প্রথমবার ‘ডক্টর মডিউল’-এর সঙ্গে দেখা হয় এক যুবকের। পরবর্তী সময়ে তাঁকে ভুল বুঝিয়ে ফরিদাবাদের একটি ভাড়া বাড়িতে নিয়ে গিয়ে জইশ-ই-মহম্মদের ওভার-গ্রাউন্ড কর্মী হওয়ার প্রস্তাব দেওয়া হয়। কিন্তু উমর আলাদা পরিকল্পনা সাজিয়েছিলেন। কয়েক মাস ধরে প্ররোচনা ও মগজধোলাইয়ের পর ওই যুবককে আত্মঘাতী বোমারু হতে রাজি করিয়ে ফেলা হয়। প্রথম হামলা হওয়ার কথা ছিল চলতি বছরের এপ্রিলেই। কিন্তু আর্থিক সংকট ও পারিবারিক সমস্যার কথা ভেবে শেষমেশ পিছিয়ে আসেন ওই যুবক।

এর পরেই মডিউল নতুন পরিকল্পনা সাজায়, বলছেন গোয়েন্দারা। তদন্তে উঠে এসেছে, দিল্লির ছ’টি জায়গায় ডিসেম্বর মাসে ধারাবাহিক বোমা বিস্ফোরণের জন্য পাঁচস্তরীয় একটি পরিকল্পনা তৈরি করেছিল উমর, শাহীন ও মুজাম্মিল। প্রথমে বিভিন্ন রাজ্যের ডাক্তারি ছাত্রদের একত্রিত করে দল তৈরি, পরে হরিয়ানা-গুরুগ্রাম জুড়ে ঘুরে রাসায়নিক ও আইইডি সংগ্রহ, বিস্ফোরক বানানো, সদস্যদের মধ্যে তা ভাগ করে দেওয়া—সবকিছুই প্রায় শেষ পর্যায়ে পৌঁছে গিয়েছিল।

পরিকল্পনা অনুযায়ী, আগামী ৬ ডিসেম্বর, অর্থাৎ বাবরি মসজিদ ধ্বংসের বার্ষিকীতে দিল্লির ছ’সাতটি গুরুত্বপূর্ণ স্থানে পর পর বোমা হামলা চালানোর কথা ছিল। কিন্তু তার আগেই একাধিক সদস্য গ্রেফতার হওয়ায় গোটা পরিকল্পনাই ধসে যায়।

গোয়েন্দাদের অনুমান, সঙ্গীদের গ্রেফতারের খবরেই ভয় পেয়ে যান উমর। ১০ নভেম্বর সকাল থেকে গাড়িভর্তি বিস্ফোরক নিয়ে দিল্লির বিভিন্ন এলাকায় দিশাহীনভাবে ঘুরে বেড়ান তিনি। শেষ পর্যন্ত সন্ধ্যায় লালকেল্লার বাইরেই বিস্ফোরণ ঘটে, এবং প্রাণ হারান ঘটনাস্থলেই।

এনআইএ-এর একটি উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানিয়েছেন, “এই মডিউল ছিল অত্যন্ত সংগঠিত, এবং এই প্রথমবার চিকিৎসকদের নেতৃত্বে তৈরি একটি সন্ত্রাসী নেটওয়ার্ক সম্পর্কে এত বিস্তৃত প্রমাণ আমাদের হাতে এসেছে।”

তদন্ত চলছে—এখনও সামনে আসতে পারে আরও ভয়ঙ্কর তথ্য।

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Adblock Detected

Please Turn Off Your Ad Blocker.