রাজ্য

বেহালার সুব্রত মিস্ত্রীর ভোটার কার্ডে ভয়াবহ গন্ডগোল, এপিক নম্বর এক — ঠিকানা বদলে সোজা সোনারপুর! বিপাকে দু’পক্ষই

বেহালা পূর্বের বাসিন্দা ও সরকারি স্কুলকর্মী সুব্রত মিস্ত্রী এখন চরম দুশ্চিন্তায়। নিজের নাম, বাবার নাম, এমনকি এপিক নম্বর—সবই তাঁর মতো। কিন্তু ঠিকানা, বয়স ও ছবি আলাদা। আর এই মিল–অমিলের জেরেই তাঁর এনুমারেশন ফর্ম গিয়ে পৌঁছেছে অন্য এক সুব্রত মিস্ত্রীর কাছে, যিনি সোনারপুর উত্তরের ভোটার। অভিযোগকারীর দাবি, কয়েক সপ্তাহ ধরে কমিশন বা স্থানীয় থানার দারস্থ হলেও কোনও সাহায্য পাননি।

নিউ আলিপুরের সাহাপুর মথুরানাথ বিদ্যাপীঠের গ্রুপ-C কর্মী সুব্রতবাবুর অভিযোগ, “বাড়িতে SIR-এর ফর্মই এল না। অনলাইনে দেখি আমার ঠিকানা বদলে বেহালার পরিবর্তে সোনারপুর উত্তর দেখাচ্ছে। আমি তো সারাজীবন বেহালাতেই ভোটার!” তিনি আরও জানান, BLO তাঁকে জানিয়েছেন যে তাঁর ফর্ম নাকি তুলে নিয়েছেন ‘সেবিকা মিস্ত্রী’ নামে কেউ। পরে BLO জানান, “স্পষ্ট গন্ডগোল হয়েছে। ছবিটা লোকাল। কিন্তু নাম–এপিক সব এক হওয়ায় ভুলবশত ওই ফর্ম দেওয়া হয়েছে।”

অন্যদিকে সোনারপুর উত্তরের সুব্রত মিস্ত্রীর মতে, তাঁর কার্ড ২০১৭ সালে ক্যানিং থেকে জমা করে তৈরি করা। স্ত্রী সবিতা জানান, তাঁরা বাংলাদেশ থেকে ২০১১ সালে ভারতে আসেন, ২০১৭-তে কার্ড তৈরি হয়, ২০২৩ সালে ট্রান্সফার। তবে কীভাবে একই এপিক নম্বর তাঁদের কাছে এলো, তা স্পষ্ট নয়।

গোটা ঘটনায় আতঙ্কিত বেহালার সুব্রতবাবুর পরিবার। “কমিশন বলছে—নাম সোনারপুরে নথিভুক্ত, আমরা কিছু করতে পারব না। থানা যাচ্ছে—কোনও সাহায্য নেই। আমি হয়রান হয়ে গেছি,” বলছেন তিনি।

ভোটার তালিকার মতো সংবেদনশীল সরকারি নথিতে কীভাবে এ ধরনের ভয়াবহ নাম-বিভ্রাট সম্ভব, তা নিয়ে বড় প্রশ্ন উঠেছে। BLO–ও স্বীকার করছেন, “আমরাও জানি না কীভাবে এটা হল।”

নাম, এপিক নম্বর, ঠিকানা—সব মিলিয়ে জটিল এই বিভ্রাটের শেষমেশ সমাধান কী হবে, তা নিয়েই এখন উদ্বেগে দিন কাটছে বেহালার সুব্রত মিস্ত্রীর।

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Adblock Detected

Please Turn Off Your Ad Blocker.