উচ্চতার সিঁড়িতে দৌড়ে চলেছে হলুদ ধাতু। ভারতের বাজারে ইতিমধ্যেই ১০ গ্রাম সোনার দাম ১ লক্ষ টাকার গণ্ডি অতিক্রম করেছে। এমন পরিস্থিতিতেই আন্তর্জাতিক বিনিয়োগ ব্যাঙ্ক UBS সামনে এনেছে আরও বিস্ফোরক পূর্বাভাস—
২০২৬ সালের মাঝামাঝি আন্তর্জাতিক বাজারে প্রতি আউন্স সোনার দাম পৌঁছে যেতে পারে রেকর্ড ৪,৫০০ ডলারে।
বিশ্ব অর্থনীতির অনিশ্চয়তা এবং মার্কিন মুদ্রানীতির সম্ভাব্য পরিবর্তনের প্রেক্ষিতে এই উত্থান যেন আরও বাস্তবসম্মত বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।
কেন লাগামছাড়া বাড়ছে সোনার দাম? তিনটি বড় কারণ
১. মার্কিন ফেডের সুদ কমানোর সম্ভাবনা
ফেডারেল রিজার্ভ সুদের হার কমাতে পারে—এই জল্পনা ডলারের শক্তি কমাচ্ছে।
ডলার দুর্বল হলেই সোনা তুলনামূলকভাবে আরও আকর্ষণীয় বিনিয়োগে পরিণত হয়। ফলে বাজারে সোনার চাহিদা দ্রুত বাড়ছে।
২. বিশ্বজুড়ে ভূ-রাজনৈতিক অস্থিরতা
ইউরোপ, মধ্যপ্রাচ্য ও এশিয়ার বিভিন্ন সংঘাত, যুদ্ধ পরিস্থিতি এবং অনিশ্চিত অর্থনৈতিক আবহ—সব মিলিয়ে ‘সেফ হেভেন অ্যাসেট’ হিসেবে সোনা কেনার প্রবণতা তীব্র হয়েছে।
ঝড়ো সময়ে বিনিয়োগকারীরা নির্ভর করে সোনার উপরই।
৩. কেন্দ্রীয় ব্যাঙ্কগুলির আগ্রাসী সোনা কেনা
বিশ্বের বড় বড় কেন্দ্রীয় ব্যাঙ্ক মুদ্রার স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে এবং বৈদেশিক রিজার্ভকে বৈচিত্র্যময় করতে বিপুল পরিমাণ সোনা কিনছে।
ফলে আন্তর্জাতিক বাজারে সরবরাহ কমে দাম আরও বাড়ছে।
২০২৫-২৬ সালে রেকর্ড ভাঙার ইঙ্গিত
বাজার বিশেষজ্ঞদের মতে,
২০২৫-২৬ অর্থবর্ষে সোনা নতুন উচ্চতা ছুঁতে পারে।
বর্তমান সব ট্রেন্ডেই ইঙ্গিত—লাগামছাড়া দাম বাড়ার এই ধারা দীর্ঘস্থায়ী হতে চলেছে।
মধ্যবিত্তের কপালে চিন্তার ভাঁজ
ভারতীয় বাজারে সোনার গয়নার দাম এখন কার্যত মধ্যবিত্তের নাগালের বাইরে।
বিয়েবাড়ি থেকে উৎসব—যে সব ক্ষেত্রে সোনা অপরিহার্য, সেখানে খরচের চাপ বাড়ছে বহুগুণে।
বিশেষজ্ঞদের ভাষ্য—
“এই মুহূর্তে সোনার দাম কমার কোনও ইঙ্গিত নেই, বরং আগামী দুই বছর বাজারকে আরও চমকে দিতে পারে হলুদ ধাতু।”







