চণ্ডিপুর বিধানসভার হাঁসচড়া তৃণমূল কংগ্রেস কার্যালয়ে তৈরি হল এক ঐতিহাসিক মুহূর্ত। গোটা অঞ্চল সাক্ষী রইল বড়সড় রাজনৈতিক পালাবদলের। বিজেপির যুব মোর্চার নেতৃত্বসহ মোট ৫০টি পরিবার এদিন আনুষ্ঠানিকভাবে ভারতীয় জনতা পার্টি দল পরিত্যাগ করে যোগ দিলেন তৃণমূল কংগ্রেসে। এলাকায় রাজনীতির সমীকরণে নতুন ঢেউ তুলেছে এই ব্যাপক যোগদান।
স্থানীয় সূত্রে খবর, দীর্ঘদিন ধরেই সংগঠনগত দুর্বলতা, নেতৃত্বের প্রতি ক্ষোভ এবং এলাকায় উন্নয়নমূলক কাজের স্থবিরতা নিয়ে অসন্তোষ তৈরি হয়েছিল বিজেপির একাংশ কর্মী-সমর্থকের মধ্যে। ঠিক সেই সময়ই মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ড এবং মানুষের পাশে থাকার রাজনীতি সাধারণ মানুষকে আকৃষ্ট করেছে বলে জানান নতুন যোগদানকারীরা।
হাঁসচড়া তৃণমূল কার্যালয়ে আজ অনুষ্ঠিত এই যোগদান অনুষ্ঠানকে কেন্দ্র করে সকাল থেকেই জমতে থাকে ভিড়। তৃণমূল নেতৃত্বের হাতে পতাকা তুলে নেওয়ার মুহূর্তে উচ্ছ্বাসে মুখর হয় গোটা এলাকা। স্থানীয় নেতাদের দাবি— “মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের উন্নয়নই আজ মানুষের আসল ভরসা। আগামী দিনে চণ্ডিপুর বিধানসভায় বিজেপি আর কোনও ভিত্তিই খুঁজে পাবে না।”
যোগদান অনুষ্ঠানে উপস্থিত তৃণমূলের শীর্ষ নেতারা বলেন, “মানুষ ভুয়ো প্রতিশ্রুতি নয়, বাস্তব কাজ চায়। সেই কারণেই আজ বিজেপির পরিবারভুক্ত বহু মানুষ আমাদের দলে আসছেন।” তাঁদের দাবি, এই যোগদান শুধু সংখ্যা বৃদ্ধির নয়, জনমতের স্পষ্ট পরিবর্তনের ইঙ্গিত।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, চণ্ডিপুরে তৃণমূলের সংগঠনে এই যোগদান নতুন শক্তি যোগাবে। অন্যদিকে, বিজেপির সংগঠনে যে ভাঙন আরও গভীর হচ্ছে, তারও স্পষ্ট বার্তা মিলেছে আজকের ঘটনায়।
হাঁসচড়ার এই দৃশ্য যে আগামী নির্বাচনের আগেই চণ্ডিপুরের রাজনৈতিক হাওয়া বদলের ইঙ্গিত দিচ্ছে, তা নিয়ে বিশেষজ্ঞদের কোনও সন্দেহ নেই।







