‘রামায়ণ’ ছবির প্রস্তুতি ঘিরে ফের সমালোচনার কেন্দ্রে রণবীর কাপুর। দীর্ঘদিন ধরেই জল্পনা ছিল—নীতেশ তিওয়ারির বৃহৎ বাজেটের ‘রামায়ণ’-এ ‘রামের’ চরিত্রে অভিনয়ের জন্য অভিনেতা নাকি সম্পূর্ণ সাত্ত্বিক জীবনযাপনে অভ্যস্ত হয়েছেন। মদ-মাংস স্পর্শ করেন না, ডায়েট থেকে বাদ দিয়েছেন সমস্ত অমিষ খাবার—এমনই দাবি উঠে এসেছিল বিভিন্ন মহলে। সেই ভাবমূর্তি তৈরি করেছিলেন তাঁর টিম বলেই অভিযোগ। কিন্তু নতুন এক ভিডিও সামনে আসতেই পরিস্থিতি ঘুরে গেল।
সাম্প্রতিক ‘ডাইনিং উইথ দ্য কাপুরস’-এর এক ঝলকে দেখা যায় কাপুর পরিবারের মধ্যাহ্নভোজের টেবিলে মাছ, খাসির মাংস, পায়া স্যুপসহ একাধিক আমিষ পদ। সেই ভোজে উপস্থিত ছিলেন রণবীরও। আর এতেই শুরু হয়েছে সোশ্যাল মিডিয়ায় কটাক্ষের ঝড়। নেটিজেনদের একাংশ প্রশ্ন তুলেছেন—যদি অভিনেতা সত্যিই সাত্ত্বিক জীবনযাপন করেন, তবে তাঁর প্লেটে মাংসের উপস্থিতি কেন? কেউ রণবীরকে ‘মিথ্যেবাদী’ বলে আক্রমণ করেছেন, কেউ আবার তাঁকে ‘রামের চরিত্রে অভিনয়ের নাটক’ না করার উপদেশ দিয়েছেন।
সমালোচক মহলের মতে, রণে রণে এই বিতর্কের মূল কারণ রণবীরকে ঘিরে গড়ে ওঠা ‘পবিত্র’ ভাবমূর্তি। অভিযোগ উঠেছে তাঁর ‘পিআর’ টিমের দিকেও। অনেকে মনে করছেন, ‘রামায়ণ’ মুক্তির আগেই ইচ্ছাকৃতভাবে অভিনেতার ইমেজ পরিবর্তনের চেষ্টা হয়েছিল। সেই প্রচারে দাবি করা হয়, রণবীর নিজের জীবনযাপন ও খাদ্যাভ্যাসে কঠোর নিয়ন্ত্রণ এনেছেন। নাগরিক সমাজের একটি অংশের বক্তব্য—তারকাদের জীবনযাপনের মতো বিষয় নিয়ে মনগড়া প্রচার করা উচিত নয়; বরং যাচাই না করে ছড়ানো এমন তথ্য উল্টে অভিনেতার ক্ষতি করতে পারে।
এই বিতর্কে আপাতত রণবীর বা তাঁর টিমের তরফে কোনও মন্তব্য আসেনি। তবে ভিডিও প্রকাশের পর থেকেই সোশ্যাল মিডিয়ায় আলোড়ন তুঙ্গে—‘রামের চরিত্রে অভিনয় করতে চাইলে বাস্তবেও রামসদৃশ হওয়া জরুরি নয়’, এমন মতও দিচ্ছেন অনেকেই। অন্যদিকে বিরোধী শিবিরের মন্তব্য—‘দর্শকদের বিভ্রান্ত করা যায় না, সত্য সামনে আসবেই।’







