বিশ্ব

রাশিয়ার ভেতরে গভীর হামলায় ইউক্রেনের বড় সাফল্য

রাশিয়া–ইউক্রেন যুদ্ধ আরও এক গুরুত্বপূর্ণ মোড় নিল। রাশিয়ার সীমান্ত ভেদ করে প্রায় ১২০ কিলোমিটার ভেতরে ঢুকে অত্যন্ত কৌশলী ক্রুজ মিসাইল হামলা চালিয়ে বিরল ও উচ্চমূল্যের দুটি সামরিক বিমান ধ্বংস করার দাবি করেছে ইউক্রেন। আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষক ও ইউক্রেনীয় সামরিক সূত্রের মতে, রাতের অন্ধকারে পরিচালিত এই অভিযান ছিল দীর্ঘ-পাল্লার নির্ভুল হামলার ধারাবাহিকতার সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য দৃষ্টান্ত।

হামলার লক্ষ্য ছিল রোস্তভ ওবলাস্টের টাগানরগ-সেন্ট্রাল এয়ারবেস, যেখানে রাশিয়ার আধুনিক ও ব্যয়বহুল বিমান মোতায়েন থাকে। স্যাটেলাইট চিত্রে দেখা গেছে, এই হামলায় একটি আধুনিকীকৃত রুশ A-50U Mainstay AEW&C বিমান সম্পূর্ণরূপে ধ্বংস হয়েছে। রাশিয়ার সমগ্র সামরিক ভাণ্ডারে এমন বিমান রয়েছে মাত্র ছয়টি। ইউক্রেনীয় প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা সনাক্ত করা, রুশ বিমান হামলা সমন্বয় এবং আকাশ নজরদারিতে A-50U-র ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এর ধ্বংস নিঃসন্দেহে রাশিয়ার জন্য বড় আঘাত।

আরও গুরুতর ক্ষতি হয়েছে পরীক্ষামূলক লেজার প্রযুক্তি–নির্ভর A-60 ‘Laser Laboratory’ বিমান ধ্বংসে। বিশ্বে মাত্র দুটি A-60 তৈরি হয়েছিল বলে জানা যায়। পর্যবেক্ষকদের ধারণা, টাগানরগ ঘাঁটিতে থাকা মডেলটি প্রায় সম্পূর্ণ ধ্বংস হয়ে থাকতে পারে। এই ক্ষতি রাশিয়ার ভবিষ্যৎ লেজার–ভিত্তিক প্রতিরক্ষা কর্মসূচিকেই ধীরগতি করতে পারে।

কিয়েভ জানিয়েছে, রাশিয়ার লাগাতার মিসাইল ও ড্রোন আক্রমণের জবাব হিসেবেই তারা এই গভীর–স্ট্রাইক অভিযান পরিচালনা করেছে। এবারের হামলা প্রমাণ করল—ইউক্রেন এখন আরও গভীরে রাশিয়ার সামরিক ঘাঁটিতে আঘাত হানার সক্ষমতা অর্জন করেছে। যদিও মস্কো এখনো সরকারি মন্তব্য করেনি, স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, হামলার সময় রাশিয়ার আকাশ নিরাপত্তা ব্যবস্থা সক্রিয় হয়েছিল এবং ঘাঁটিতে জরুরি পরিষেবা দ্রুত মোতায়েন করা হয়।

এই ঘটনা যুদ্ধের গতিপথে নতুন সমীকরণ তৈরি করতে পারে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা। ক্রমাগত দূরপাল্লার আক্রমণে রুশ আকাশ নজরদারি ব্যবস্থার ওপর চাপ আরও বাড়বে বলেই মনে করা হচ্ছে।

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Adblock Detected

Please Turn Off Your Ad Blocker.