ফুটবলের মাঠে মেজাজ হারানোর ঘটনা নতুন নয়, কিন্তু নিজের দলের খেলোয়াড়কে আক্রমণ করে লাল কার্ড দেখার ঘটনা বিরল। এমনই এক অবাক করা দৃশ্যের সাক্ষী থাকল ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগ। এই কাণ্ড ঘটিয়েছেন এভার্টনের অভিজ্ঞ মিডফিল্ডার ইদ্রিশ গানা গায়া, যিনি সতীর্থ মাইকেল কিনকে চড় মেরে সরাসরি মার্চিং অর্ডার পান। অথচ, ম্যাচের প্রায় পুরো সময়টা ১০ জন নিয়ে খেলেও ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডকে ১-০ গোলে পরাজিত করে এভার্টন।
ম্যাচের শুরুতেই নাটক। মাত্র ১২ মিনিটের মাথায় ঘটনাটি ঘটে। সেনেগালের তারকা গায়া বিপন্মুক্ত করার চেষ্টা করলেও অসাবধানতাবশত একটি ঝুঁকিপূর্ণ ব্যাক পাস দেন, যা ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডকে গোলের সুযোগ এনে দেয় (যদিও তারা তা কাজে লাগাতে পারেনি)। এই মারাত্মক ভুলের পরই বক্সের মধ্যে সতীর্থ কিনকে উদ্দেশ্য করে তীব্র চিৎকার শুরু করেন গায়া। কেন কিন বলটি ধরতে দ্রুত এগিয়ে এলেন না, তা নিয়ে দুজনের মধ্যে তর্কাতর্কি চরম পর্যায়ে পৌঁছায়। মুহূর্তে মাথা গরম করে গায়া অপ্রত্যাশিতভাবে কিনের গালে চড় মেরে বসেন!
পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাওয়ার আগেই গোলরক্ষক জর্ডান পিকফোর্ড দ্রুত হস্তক্ষেপ করেন এবং কিনকে সরিয়ে দেন। তবে রেফারির চোখে গায়ার এই আচরণ ছিল ‘বিপজ্জনক’, ফলস্বরূপ তিনি লাল কার্ড দেখে মাঠ ছাড়তে বাধ্য হন।অধিকাংশ সময় একজন কম নিয়ে খেলা সত্ত্বেও এভার্টন যেন আরও বেশি উদ্দীপনা নিয়ে খেলতে শুরু করে। ঘটনার ১৭ মিনিট পরই ২৯ মিনিটে ড্যুসবেরি-হল-এর গোলে তারা লিড নেয়। সেই ১-০ ব্যবধান শেষ পর্যন্ত ধরে রাখতে সক্ষম হয় এভার্টন। ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডের আক্রমণভাগের সমস্ত প্রচেষ্টা এদিন ব্যর্থ হয়, যার পেছনে এভার্টনের গোলরক্ষক পিকফোর্ডের অনবদ্য অবদান ছিল।ম্যাচ শেষে নিজের আচরণের জন্য অনুতপ্ত গায়া ক্ষমা চাইলেও, এভার্টনের কোচ ডেভিস মোয়েস মজার ছলে খেলোয়াড়দের এমন ‘লড়াই’-এর পক্ষে মত দেন।







