নিজস্ব সংবাদদাতা: নতুন ওয়াক্ফ (Waqf Amendment Act, 2025) আইন মানতে প্রথমে রাজ্য অনীহা দেখালেও শেষ পর্যন্ত কেন্দ্রীয় নির্দেশ মেনেই ওয়াক্ফ সম্পত্তির খতিয়ান ‘umeedminority.gov.in’ পোর্টালে আপলোড করতে সম্মত হল পশ্চিমবঙ্গ সরকার। সংখ্যালঘু বিষয়ক ও মাদ্রাসা শিক্ষা দফতরের সচিব ডঃ পি.বি. সালিম বৃহস্পতিবার সন্ধেয় সমস্ত জেলা শাসকদের কাছে এ সংক্রান্ত নির্দেশিকা পাঠিয়ে দিয়েছেন। নির্দেশ অনুযায়ী, ৫ ডিসেম্বর ২০২৫-এর মধ্যে জেলা ধরে ধরে সমস্ত অ-বিতর্কিত ওয়াক্ফ সম্পত্তির তথ্য কেন্দ্রীয় পোর্টালে তুলতেই হবে।
আইন অনুযায়ী পালানো সম্ভব নয়—তাই শেষ পর্যন্ত কেন্দ্রের বাধ্যবাধকতাই মানতে হল রাজ্যকে।
কেন্দ্র-বিরোধী অবস্থান থেকে নীতিগত সরে দাঁড়ানো
ওয়াক্ফ অ্যামেন্ডমেন্ট অ্যাক্ট সংসদের দুই কক্ষে পাশ হওয়ার সময় থেকেই বাংলায় প্রতিক্রিয়া তীব্র ছিল। মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় স্পষ্ট জানিয়েছিলেন—
“বাংলায় ওয়াক্ফ অ্যামেন্ডমেন্ট অ্যাক্ট কার্যকর হতে দেব না।”
তিনি আরও বলেছিলেন—রাজ্যে প্রায় ৩৩% মুসলিম জনগোষ্ঠী বসবাস করেন এবং তাঁদের স্বার্থরক্ষায় রাজ্য দায়বদ্ধ। কিন্তু আদালত থেকে পর্যাপ্ত স্বস্তি না মিলতেই শেষ পর্যন্ত আইন মানার পথেই ফিরল নবান্ন।
আইনের বাধ্যবাধকতা কী বলছে
ওয়াক্ফ সংশোধন আইন ৮ এপ্রিল ২০২৫ থেকে কার্যকর হয়েছে।
আইনের 3B ধারা অনুযায়ী—
দেশের সব নিবন্ধিত ওয়াক্ফ সম্পত্তির তথ্য ৬ মাসের মধ্যে কেন্দ্রীয় পোর্টালে আপলোড বাধ্যতামূলক।
দায়িত্ব থাকবে সংশ্লিষ্ট মুতাওয়াল্লির উপরেই।
সময়সীমা শেষ হচ্ছে ৫ ডিসেম্বর ২০২৫।
বাংলায় ৮২,০০০ ওয়াক্ফ সম্পত্তি, ৮,০০০ এস্টেট
সংখ্যালঘু উন্নয়ন দফতরের পাঠানো চিঠি অনুযায়ী—
রাজ্যে ওয়াক্ফ সম্পত্তি — ৮২,০০০+
ওয়াক্ফ এস্টেট — ৮,০০০+
প্রতিটি এস্টেটের অধীনে থাকা অ-বিতর্কিত ও ‘Enrolled (EC)’ সম্পত্তি-ই আপলোড করা যাবে।
মুতাওয়াল্লিরাই ‘Maker’ হিসেবে ডেটা এন্ট্রি করবেন।
জেলাশাসকদের প্রতি চার দফা নির্দেশ
১) ইমাম, মোয়াজ্জিন, মুতাওয়াল্লি ও মাদ্রাসা শিক্ষকদের নিয়ে বৈঠক—ডেটা আপলোড প্রক্রিয়া ব্যাখ্যা করতে হবে।
২) কেবল অ-বিতর্কিত সম্পত্তি রেজিস্টার—বিতর্কিত সম্পত্তির তথ্য আপলোড নয়।
৩) প্রয়োজন হলে প্রযুক্তি-সহায়ক কর্মী নিয়ে Facilitation Centre খোলা।
৪) রাজ্যের সিনিয়র সংখ্যালঘু আধিকারিকদের জেলা পরিদর্শনে পাঠানো।
সময়ের সঙ্কট, প্রশাসনে চাপ বাড়ার শঙ্কা
আইন কার্যকর হওয়ার পর প্রায় ছ’মাস সময় থাকলেও আপলোডের নির্দেশ এল একেবারে ডেডলাইনের মুখে। সামনে মাত্র কয়েকদিন—তাই প্রশাসনিক স্তরে হুড়োহুড়ির আশঙ্কা থাকছে বলেই মত সরকারি মহলের একাংশের। এত বিপুল সম্পত্তির তথ্য সীমিত সময়ে আপলোড করা কতটা সহজ হবে, তা নিয়েও প্রশ্ন উঠছে।
তবে আপাতত স্বীকৃত সত্য একটাই—আইনের সামনে মাথা নুইয়েই কেন্দ্রীয় পোর্টালে তথ্য আপলোড শুরু করতে চলেছে রাজ্য।
বাংলায় সংখ্যালঘু রাজনীতির অস্বস্তির মধ্যেই নবান্নের এই সিদ্ধান্ত রাজনৈতিকভাবে তাৎপর্যপূর্ণ বলেই বিশেষজ্ঞদের ধারণা।







