খেলাধুলা

ফ্র্যাঞ্চাইজি নয়, পরিবার! আইপিএল ছেড়েও কেকেআরেই রাসেলের প্রত্যাবর্তন

দীর্ঘ ১২ বছরের সম্পর্কের পর অবশেষে আইপিএল থেকে অবসর ঘোষণা করলেন ওয়েস্ট ইন্ডিজের তারকা অলরাউন্ডার আন্দ্রে রাসেল। কলকাতা নাইট রাইডার্স (কেকেআর) তাঁকে রিটেন না করায় অনেকের মতো তিনিও বিস্মিত হলেও, সিদ্ধান্ত নিলেন আবেগ এবং বিশ্বাসের জায়গা থেকেই। আর সেই সিদ্ধান্তেই সমাপ্তি ঘটল তাঁর আইপিএল ক্রিকেটার অধ্যায়ের। তবে এখানেই শেষ নয় — নতুন রূপে, নতুন ভূমিকায় তিনি থাকছেন নিজের ‘ঘরে’। ২০২৬ সালের আইপিএল থেকে কেকেআরের পাওয়ার কোচ হিসেবে দেখা যাবে তাঁকে।

অবসরের ঘোষণায় রাসেলের কণ্ঠে স্পষ্ট আবেগের সুর—
“আইপিএলে আমার যাত্রা ছিল অবিশ্বাস্য। কেকেআর পরিবার আমাকে দিয়েছে অনেক ভালবাসা। ক্রিকেটার হিসেবে না হয় শেষ, কিন্তু নাইটদের সঙ্গে সম্পর্ক শেষ নয়। আমি নিজেকে দেখব নতুন ভূমিকায় — পাওয়ার কোচ, একই শক্তি, একই আবেগ। নাইট হয়েছি, নাইটই থাকব।”

২০২০-য় রাসেলের মুখে শোনা গিয়েছিল সেই বিখ্যাত উক্তি— “শেষদিন পর্যন্ত আইপিএল খেললে, খেলব কেকেআরের হয়েই।” হয়তো সেই প্রতিশ্রুতিই আজ পূর্ণাঙ্গ রূপ পেল। কেকেআর যখন তাঁকে রিটেন করেনি, রাসেল নিজের মতো করে নিলেন ভবিষ্যৎ ঠিক করার সিদ্ধান্ত। নতুন দলে যাওয়ার প্রস্তাব, সম্ভাবনা— কিছুই তাঁকে টলাতে পারেনি।

রাসেলের আরও বক্তব্য—
“বেগুনি আর সোনালি ছাড়া অন্য জার্সিতে নিজেকে কল্পনাও করতে পারিনি। সোশ্যাল মিডিয়ায় নিজেকে অন্য দলের জার্সিতে দেখে অস্বস্তি হত। রাতে ঘুম ভাঙত। তখনই বুঝেছিলাম সিদ্ধান্ত স্পষ্ট — হয় কেকেআর, নয়তো না।”

আইপিএলে রাসেলের যাত্রা শুরু হয়েছিল দিল্লি ক্যাপিটালসের হয়ে ২০১২ সালে। তবে তাঁর প্রকৃত পরিচয় উঠে আসে ২০১৪-য় কেকেআরে যোগ দেওয়ার পরই। প্রথম মরশুমেই দলের হয়ে শিরোপা জেতানো, এরপর একের পর এক বিধ্বংসী ইনিংস ও ম্যাচ ঘোরানো পারফরম্যান্স— কলকাতার ক্রিকেট-স্মৃতিতে অমর হয়ে থাকবে রাসেল-যুগ। মোট ১৪০ ম্যাচে তাঁর সংগ্রহ ২,৬৫১ রান ও ১২৩ উইকেট— যা তাঁকে আইপিএল ইতিহাসের অন্যতম ভয়ঙ্কর অলরাউন্ডারের আসনে বসিয়েছে।

নিজের অবসরের কারণ ব্যাখ্যায় রাসেল বলেন,
“অবসর তখনই নেওয়া উচিত যখন মানুষ প্রশ্ন করে— এখনও কেন থামছ? এর বদলে যদি শোনা যায়, ‘আরও আগেই থামা উচিত ছিল’, সেটা বেদনাদায়ক। তাই এই মুহূর্তটাই সেরা।”

এক যুগের সঙ্গ শেষ, কিন্তু সম্পর্ক অটুট। এবার থেকে ব্যাট নয়, তাঁর হাত ধরবে আরও তরুণ রাসেল তৈরির স্বপ্ন। আবারও ইডেনের গ্যালারিতে প্রতিধ্বনি উঠতে পারে —
‘রাসেল.. রাসেল..’
তবে এবার কোচের কোটে, টিমের ডাগআউটে বসে।

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Adblock Detected

Please Turn Off Your Ad Blocker.