পাকিস্তানের বালোচিস্তান আবারও রক্তাক্ত। মাত্র ২৪ ঘণ্টার ব্যবধানে সাত-সাতটি ভয়াবহ বিস্ফোরণে কেঁপে উঠল প্রদেশের একাধিক এলাকা। হামলার দায় স্বীকার করেনি কোনও সংগঠন। তবে গোয়েন্দা ও নিরাপত্তা সূত্রের প্রাথমিক অনুমান—এর নেপথ্যে সক্রিয় বালোচ বিদ্রোহী সংগঠনগুলিই।
সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে রাজধানী কোয়েটা ও ডেরা মুরাদ জমালি। শনিবার রাত থেকেই শুরু হওয়া বিস্ফোরণস্রোত চলেছে রবিবার সকাল পর্যন্ত।
কোয়েটায় লক্ষ্যবস্তু পুলিশ, রেললাইন ও সিটিডি
শনিবার প্রথমে কোয়েটার একটি পুলিশ চেকপয়েন্টে গ্রেনেড হামলা হয়। কিছুক্ষণের মধ্যেই ‘কাউন্টার টেররিজম ডিপার্টমেন্ট’-এর (CTD) গাড়িকে লক্ষ্য করে আইইডি বিস্ফোরণ। সন্ধে গড়ানোর আগেই আরও তিন দফা বিস্ফোরণ কাঁপায় শহর।
কোয়েটা পুলিশ আধিকারিক আসিফ খানের দাবি—শহরের উপকণ্ঠে লোহার কারেজের কাছে রেললাইনের নিচে পুঁতে রাখা হয় বিস্ফোরক। ট্রেন আসতে দেখা গিয়েই তা সক্রিয় করা হয় বলে পুলিশের ধারণা। এতে দেশজোড়া যোগাযোগের অন্যতম লাইফলাইন সেই রেললাইন গুরুতর ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
ডেরা মুরাদ জমালিতে গ্রেনেডে ক্ষতবিক্ষত টহলদল
বালোচিস্তানের মধ্যাঞ্চল ডেরা মুরাদ জমালিতেও হামলা চালায় দুষ্কৃতীরা। টহলরত পুলিশ ভ্যানে ছোড়া হয় গ্রেনেড। একই সময়ে কোয়েটার সারিয়াব রোডে একটি নির্মাণ সংস্থার দফতরেও গ্রেনেড হামলা হয়। আহত হন নিরাপত্তারক্ষীসহ অন্তত দু’জন।
রবিবার সকালে আরও দু’টি বিস্ফোরণ ঘটে কোয়েটার থানাপ্রাঙ্গণ ও পুলিশ ক্যাম্প চত্বরে।
বিদ্রোহীদের পুরনো লড়াইয়ে ফের তাপ বাড়ল সীমান্তে
এখনও পর্যন্ত দায় নেয়নি কেউ। তবে নিরাপত্তাবাহিনীর দাবি—পাকিস্তান থেকে আলাদা রাজ্য গঠনের দাবিতে বহু দশক ধরে আন্দোলনরত বালোচ বিদ্রোহীদের সক্রিয় উপস্থিতির প্রমাণ মিলেছে।
পাক সেনার দমননীতি ও নিপীড়নের জেরে জন্ম নিয়েছে সশস্ত্র সংগঠন Baloch Liberation Army (BLA)। সেনা অভিযানের প্রতিক্রিয়াতেই ফের বেড়েছে হামলার মাত্রা—এমনটাই বিশেষজ্ঞদের মত।
এর সঙ্গে যোগ হয়েছে আফগান সীমান্তে সংঘর্ষ ও তেহরিক-ই-তালিবান পাকিস্তান (TTP)-এর নতুন করে মাথাচাড়া দিয়ে ওঠা। বহু-মুখী সন্ত্রাস চাপ সামলাতে হিমশিম শাহবাজ শরিফ সরকার। সেই সুযোগেই বালোচ সংগঠনগুলোও আবার আক্রমণাত্মক—এমনটাই ওয়াকিবহাল মহলের অভিমত।







