সৈয়দ মুস্তাক আলি টি-টোয়েন্টি ট্রফিতে পাঞ্জাবের ওপেনার অভিষেক শর্মা রবিবার যা করে দেখালেন, তাতে ক্রিকেট মহলে ঝড় উঠেছে। হায়দ্রাবাদের জিমখানা মাঠে বাংলার বিপক্ষে গ্রুপ ‘সি’-র ম্যাচে এই বাঁহাতি ব্যাটসম্যান বুঝিয়ে দিলেন কেন তাঁকে দেশের সবচেয়ে বিপজ্জনক টি-টোয়েন্টি ব্যাটসম্যান বলা হয়। মাত্র ১২ বলে ৫০ রান করে তিনি তাঁর মেন্টর যুবরাজ সিংয়ের সঙ্গে দ্রুততম অর্ধশতরানের তালিকায় যৌথভাবে দ্বিতীয় স্থানে উঠে এলেন। আর শতকের জন্য নিলেন মাত্র ৩২ বল!
অভিষেকের ৫২ বলে ১৪৮ রানের বিধ্বংসী ইনিংসের সুবাদে পাঞ্জাব ৩১0/৫ রানের এক বিশাল স্কোর খাড়া করে। বাংলার বোলিং আক্রমণে ছিলেন অভিজ্ঞ মহম্মদ শামি এবং আকাশ দীপ।২০২৩-২৪ মরসুমের চ্যাম্পিয়ন পাঞ্জাব এই টুর্নামেন্টের অন্যতম শক্তিশালী দল। এই ম্যাচে টসে জিতে তারা প্রথমে ব্যাটিং করার সিদ্ধান্ত নেয়। ওপেনিংয়ে অভিষেক এবং প্রভসিমরন সিং মিলে এক চরম বিস্ফোরক সূচনা করেন। মাত্র ১২.৩ ওভারেই এই বাঁহাতি-ডানহাতি জুটি ২০৫ রানের পার্টনারশিপ গড়ে। যদিও প্রভসিমরনকে (৩৫ বলে ৭০ রান) কিছুটা ব্যাকফুটে খেলতে হয়েছে, তবুও তার ইনিংসটি ছিল গুরুত্বপূর্ণ। কিন্তু সব আলো কেড়ে নেন অভিষেক।
ছক্কা মারায় তাঁর দক্ষতার কথা কারও অজানা নয়। এই ইনিংসে তিনি মোট ১৬টি ছক্কা হাঁকান, যার মধ্যে শামি এবং আকাশ দীপের বিরুদ্ধে একাই হাঁকান পাঁচটি। তাঁর স্ট্রাইক রেট ছিল অবিশ্বাস্য, ২৮৪.৬২! তিনি একসময় সিঙ্গলসের চেয়ে বেশি ছক্কা মেরেছিলেন, যা টি-টোয়েন্টি ফরম্যাটে বিরল। শেষ পর্যন্ত ১৮টি সিঙ্গলস নিয়ে তিনি নিজের ইনিংস শেষ করেন।ওপেনাররা ম্যাচের ভিত গড়ে দেওয়ায় এরপর অনমোলপ্রীত সিং, রমনদীপ সিং ও সানভির সিং দলের স্কোরকে ৩১০/৫-এ নিয়ে যান। এটি সৈয়দ মুশতাক আলি ট্রফিতে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ স্কোর। বরোদা একবার সিকিমের বিরুদ্ধে ৩৪৯/৫ করেছিল।
এই রান তাড়া করতে নেমে বাংলা শুরু থেকেই ছন্দ হারায়। নিয়মিত ব্যবধানে উইকেট হারাতে থাকায় ম্যাচ থেকে তারা ছিটকে যায়। তবে অভিমন্যু ঈশ্বরণ ৬৬ বলে ১৩০ রানের এক লড়াকু অপরাজিত ইনিংস খেললেও, শেষ পর্যন্ত বাংলা ৯ উইকেটে মাত্র ১৯৮ রানে থামে এবং ১১২ রানের বড় ব্যবধানে ম্যাচ হারে।







