ক্রিকেট জীবনে একসময় কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে লড়েছেন যারা, এবার তাঁরাই হাতে হাত রেখে ঝাড়খণ্ড ক্রিকেটকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার দায়িত্ব নিয়েছেন। জেএসসিএ (ঝাড়খণ্ড স্টেট ক্রিকেট অ্যাসোসিয়েশন) ভবনের একতলায় এখন চলছে দুই পুরনো তারকার নতুন প্রশাসনিক ইনিংস। প্রাক্তন ক্রিকেটার সৌরভ তিওয়ারি বর্তমানে ক্রিকেট সংস্থার সচিবের পদে, আর তাঁর সঙ্গী শাহবাজ নাদিম যুগ্ম-সচিবের চেয়ারে। মাস কয়েক আগে এই দুই বন্ধু দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকেই ঘরোয়া ক্রিকেটে ঝাড়খণ্ড দলের পারফরম্যান্সে দেখা দিয়েছে ইতিবাচক পরিবর্তন।
তবে এই দুই প্রশাসকের প্রতিটি বড় পদক্ষেপের নেপথ্যে রয়েছে এক অদৃশ্য শক্তি, এক কিংবদন্তী ক্রিকেটারের মস্তিষ্ক।তিনি হলেন মহেন্দ্র সিং ধোনি। প্রশাসনিক কাজ শুরু করার সঙ্গে সঙ্গেই সৌরভ এবং নাদিম নিজেদের প্রাথমিক পরিকল্পনা নিয়ে ছুটে গিয়েছিলেন ধোনির কাছে। তাঁদের ভাবনার কথা শোনার পর বিশ্বজয়ী অধিনায়ক একটি গুরুত্বপূর্ণ পরামর্শ দেন, যা রাজ্যের ক্রিকেটে এক নতুন দিক খুলে দেবে।
নাদিম বলেন, “আমরা দায়িত্ব নেওয়ার পরই মাহিভাইয়ের সঙ্গে দেখা করি। আমরা কী করতে চাই, সেই বিষয়ে তাঁর মতামত জানতে চাই। তিনি জেএসসিএ স্টেডিয়ামের ফাঁকা জায়গায় একটি উন্নত মানের রিহ্যাব সেন্টার বানানোর ওপর জোর দেন।” নাদিম আরও ব্যাখ্যা করেন, “আমাদের ক্রিকেটাররা ইনজুরিতে পড়লে চিকিৎসার জন্য তাদের ন্যাশনাল ক্রিকেট অ্যাকাডেমি (এনসিএ) বা মুম্বইয়ের মতো দূরবর্তী শহরে যেতে হয়। আমরা যদি এখানে ভালো ফিজিও ও ট্রেনার দিয়ে রিহ্যাব সেন্টার তৈরি করতে পারি, তাহলে ক্রিকেটাররা বাড়ির কাছেই দ্রুত সুস্থ হতে পারবে। সবচেয়ে বড় সুবিধা হল, জেএসসিএ পুরো রিকভারি প্রক্রিয়াটি সহজে পর্যবেক্ষণ করতে পারবে। মাহিভাইয়ের মতো একজন পরামর্শদাতা পাশে থাকলে আমাদের কাজ করা অনেক সহজ হয়।” ঝাড়খণ্ডে ক্রিকেট প্রতিভা খুঁজে বের করার পদ্ধতিটিকে আরও শক্তিশালী করতে চাইছেন সৌরভ-নাদিম জুটি। যেখানে কলকাতা বা মুম্বাইতে ক্লাব ক্রিকেটই মূল ভিত্তি, সেখানে ঝাড়খণ্ডে জেলাভিত্তিক ক্রিকেটই প্রাণকেন্দ্র।
নাদিম বলেন, “আমরা রাজ্যের চার-পাঁচটি জেলায় অত্যাধুনিক আবাসিক অ্যাকাডেমি তৈরি করার পরিকল্পনা নিয়েছি, যা সরাসরি জেএসসিএ দ্বারা পরিচালিত হবে। শুধুমাত্র স্বল্প সময়ের ক্যাম্প নয়, এই অ্যাকাডেমিগুলোতে বছরভর চলবে প্রশিক্ষণ। আমরা ভালো ভালো কোচ নিয়োগ করব যাতে রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে সেরা প্রতিভাগুলো সামনে আসতে পারে।” এই নতুন পরিকল্পনাগুলি বাস্তবায়নে মহেন্দ্র সিং ধোনিই থাকছেন প্রধান পথপ্রদর্শকের ভূমিকায়।







