রাজ্য

ভূমিকম্প মানচিত্রে বড় বদল, যোগ হলো ‘জোন-৬’

অতি বিপজ্জনক তালিকায় দার্জিলিং–সিকিম–অরুণাচল, ঝুঁকিতে কলকাতাও

দেশের ভূমিকম্পপ্রবণ অঞ্চলগুলির মানচিত্রে বড়সড় পরিবর্তন আনল ব্যুরো অফ ইন্ডিয়ান স্ট্যান্ডার্ডস (বিআইএস)। নতুন রিপোর্টে প্রথমবার যুক্ত হয়েছে একটি নতুন শ্রেণি—‘সিসমিক জ়োন-৬’। এই জ়োনে রাখা হয়েছে দেশের সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ অঞ্চলগুলিকে। সেই তালিকায় উঠে এসেছে দার্জিলিং, কালিম্পং, কার্শিয়াং, সিকিম, অরুণাচল প্রদেশ এবং সম্পূর্ণ উত্তরাখণ্ড। পূর্ব হিমালয়ের বিস্তীর্ণ অংশকে এবার ‘অতি ভূমিকম্পপ্রবণ’ এলাকা হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে।

এত দিন পর্যন্ত দেশে চারটি সিসমিক জ়োনের ভিত্তিতে ঝুঁকি নির্ধারণ করা হতো—জ়োন-২ থেকে জ়োন-৫ পর্যন্ত। যেখানে জ়োন-৫ ছিল সর্বোচ্চ ঝুঁকির স্তর। নতুন সমীক্ষা অনুযায়ী, হিমালয় অঞ্চলকে এবার আরও এক ধাপ উপরে তুলে জ়োন-৬ ঘোষণা করা হয়েছে।
বিআইএস-এর রিপোর্ট অনুযায়ী, ভারতের মোট ভূমির প্রায় ৬১ শতাংশ এলাকা এখন মাঝারি থেকে উচ্চ ভূমিকম্প-ঝুঁকির মধ্যে পড়ে। যা গত কয়েক দশকের মধ্যে সবচেয়ে বড় পরিবর্তন বলে মনে করা হচ্ছে।

*পাহাড় ‘আরও উত্তেজিত’, বাড়ছে বিপদের আশঙ্কা*
বিশেষজ্ঞদের মতে, সাম্প্রতিক অতিবৃষ্টি, ভূমিধস ও ভূগর্ভস্থ প্লেটের অস্বাভাবিক নড়াচড়ার ফলে হিমালয়ের ভূস্তর আগের তুলনায় অনেক বেশি ‘অস্থির’ বা উত্তেজিত হয়ে উঠেছে।
পরিবেশবিদ এবং ভূ-বিজ্ঞানীদের বক্তব্য,

অনিয়ন্ত্রিত বহুতল নির্মাণ

পাহাড় কেটে সড়ক ও টানেল

নদীর স্বাভাবিক প্রবাহে বাঁধ

জলবিদ্যুৎ প্রকল্পের বাড়বাড়ন্ত
এই সব মিলেই বিপদের আশঙ্কা বহু গুণ বাড়িয়ে দিয়েছে।

*ঝুঁকির মাঝামাঝিতে কলকাতা*
নতুন মানচিত্র অনুযায়ী কলকাতা রয়েছে সিসমিক জ়োন-৪-এ, যা উচ্চ ঝুঁকির দিকেই পড়ে। অর্থাৎ সরাসরি অতি বিপজ্জনক জ়োনে না পড়লেও, বড় কম্পনে শহরটির ক্ষতির সম্ভাবনা উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না।

*বিশেষজ্ঞদের সতর্কবার্তা*
ভূগোলবিদ ড. পার্থপ্রতিম রায় বলেন,

“এখনই প্রশাসনিক স্তরে কঠোর সিদ্ধান্ত না নিলে আগামী দিনে ভয়াবহ পরিণতি অপেক্ষা করছে। পাহাড়ে নির্মাণবিধি আরও কঠোর করতে হবে। ব্যাপক সবুজায়ন ও ভূমিক্ষয় রোধে জোর দিতে হবে। জাপানের মতো আধুনিক ভূমিকম্প-প্রতিরোধ প্রযুক্তি প্রয়োগ জরুরি।”

উত্তরবঙ্গ বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ইন্দ্রজিৎ চৌধুরী জানান,

“ভূমিকম্প আটকানো যাবে না, কিন্তু ক্ষয়ক্ষতি কমানো আমাদের হাতেই। পুরনো ঝুঁকিপূর্ণ নির্মাণ দ্রুত সংস্কার করতে হবে।”

*নতুন টাউনশিপের পরিকল্পনা*
নতুন রিপোর্ট সম্পর্কে অবগত জিটিএ। মুখপাত্র এসপি শর্মা জানান, দার্জিলিঙে পর্যাপ্ত জায়গার অভাবে বহুতল বাড়ছে। সেই কারণেই নতুন টাউনশিপ গড়ার পরিকল্পনা নিয়ে মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে আলোচনা চলছে। একাধিক চা-বাগান চিহ্নিত করা হয়েছে বলেও জানান তিনি।

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Adblock Detected

Please Turn Off Your Ad Blocker.